শিপার আহমেদ, বিয়ানীবাজার | ২৩ এপ্রিল, ২০১৭
শেষ মূহূর্তে এসে বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনের প্রার্থীরা আরো জোরেশোরে প্রচারণায় নেমেছেন। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে উন্নয়নের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাস দিচ্ছেন তারা। ২৫ এপ্রিল এ পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নানা মিষ্টি কথা আর প্রতিশ্রুতির ঢালি খুললেও ‘মুখরোচক’ কথায় গুরুত্ব না গিয়ে প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ডকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন সচেতন ভোটররা । শুক্র ও শনিবার পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পোস্টারের পাশাপাশি নানা ফেস্টুন ও ব্যানার টানানো হয়েছে।
এ নির্বাচনে ৮ জন মেয়র, ৯ ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন এবং তিনটি সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রার্থীরা দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে জনসংযোগ, সভা ও উঠান বৈঠকের ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাড়া মহল্লার মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থী ও সমর্থকসহ তাদের স্বজনরা।
চায়ের দোকান থেকে শুরু করে প্রতিটি ওয়ার্ডের গণ্ডি ছাড়িয়ে নির্বাচনী আমেজ এখন পুরো উপজেলায় বিরাজ করছে।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। এ নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত আব্দুস শুক্কুর (নৌকা), বিএনপি মনোনীত আবু নাছের পিন্টুকে (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী তফজ্জুল হোসেন ( জগ) , জামাত ইসলামীর সমর্তিত প্রার্থী জমির উদ্দিন ( রেল ইন্জিন), স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কাশেম পল্লব (মোবাইল ফোন) , জাসদ মনোনীত প্রার্থী শমশের আলম (মশাল), উচ্চ আদালতের রায়ে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন আমান উদ্দিন, (কম্পিউটার) ও বদরুল হক (চেশমা) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া তফজ্জুল হোসেনর মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে নির্বাচন বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী প্রচারে এগিয়ে রয়েছেন।
সরকারদলীয় আওয়ামী লীগের মেয়র পদে মনোনীত প্রার্থী আব্দুস শুকুর জানান, তিনি নির্বাচিত হলে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, পৌর এলাকার রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ ১৭টি বিষয়ে উন্নয়নমূলক কাজ করে যাবেন। তিনি আশা করেন, ভোটাররা তাকে বিপুল ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।
বিএনপির মেয়র পদে মনোনীত প্রার্থী আবু নাছের পিন্টু জানান, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো রয়েছে। এ পরিবেশ ভালো থাকলে বিজয় সুনিশ্চিত। এ এলাকায় তার বিপুল পরিমাণে সমর্থক রয়েছেন। যেখানে যাচ্ছেন সেখানে সমর্থকদের প্রচুর সাড়া পাচ্ছেন। জয়ী হতে পারলে তিনি পৌরসভার উন্নয়ন ঘটাবেন।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তফজ্জুল হোসেন বলেন, এখানে দু’দলের প্রতি লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দু’দলের মধ্যে গ্রুপিং ও মারামারি লেগেই রয়েছে। এখানকার লোকজন আগের বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অবস্থা দেখেছে। উন্নয়নের জন্য তারা কোনো কাজ করেননি। জনগণের আহ্বানে এবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জগ মার্কার জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চন্দন কুমার চক্রবর্ত্তী জানান, নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের দিনে তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। এ ছাড়া নির্বাচনের দিনে র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে।
পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনির হোসেন জানান, বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই শান্তিপূর্ণ রয়েছে ও প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার খুব ভালোভাবে চালাচ্ছেন। এখনো কোন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীর বিরুদ্ধে বড় কোন অভিযোগ উত্তাপন করেননি। প্রশাসনের বিরুদ্ধেও প্রার্থীদের কোন অভিযোগ নেই। আমরা সতর্ক রয়েছি। কাউকে বিশেষ কোন সুবিধা দেয়ার সুযোগ নেই। প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। সূতরাং ভোট হবে সুষ্টু, নিরপেক্ষ এবং অবাধ। যে জয়লাভ করবে সেই হবে জনগণের প্রতিনিধি। এক্ষেত্রে তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।
বিয়ানীবাজার পৌরসভার ২৫ হাজার ২৪ জন ভোটার এবার প্রথমবারের মতো পৌর নির্বাচনে ভোট প্রদান করবেন। এ পৌরসভায় পুরুষ ভোটারের চেয়ে মহিলা ভোটার ১৬৪ জন বেশি। পুরুষ ভোটার ১২ হাজার ৪শ’৩জন এবং মহিলা ভোটার ১২ হাজার ৫শ’ ৯৪ জন। ওয়ার্ডভিত্তিক ভোটারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট ৬ নং ওয়ার্ডে। ভোট সংখ্যা ৩ হাজার ৭শ’ ৭১ ভোট।