সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৬ এপ্রিল, ২০১৭
সিলেটে যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক পরিবারের বাসা-মার্কেট দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে নগরী থেকে এমরান আহমদসহ চার সন্ত্রাসীকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত এমরান নগরীর মদিনা মার্কেটের এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত।
মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
জানা যায়, সন্ত্রাসী এমরান দীর্ঘদিন ধরে মদিনা মার্কেট, কালীবাড়ি, নোয়াপাড়া, পল্লবী আবাসিক এলাকায় শাসক দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল। বাসা বাড়ি নির্মাণ, ভূমি ক্রয়-বিক্রয় করতে গিয়ে এমরানকে দিতে হয় মোটা অংকের চাঁদা। টাকা না দিলে পিস্তল উচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি ধমকি দেয় সে। শাসকদলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকা এমরানের নেতৃত্বে এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি চাঁদাবাজ চক্র। যা এলাকায় এমরান বাহিনী বলেও পরিচিত। সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার এমরান স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী বলে জানা গেছে।
এক যুক্তরাজ্য প্রবাসী পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি অন্যথায় খুন করার হুমকির অভিযোগে সোমবার রাতে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরমধ্যে নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ এমরান আহমদ নোয়াপাড়া বন্ধন ডি/১৫ নং বাসার বাসিন্দা আফতাব আলীর পুত্র। গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হচ্ছে, নগরীর পনিটুলা এলাকার কবির আহমদ ওরফে কাজি কবির, নেহারিপাড়ার হানিফ আহমদ ও হালদার পাড়ার সুহেল আহমদ। জানা যায়, ব্রিটিশ পরিবারের কাছে এককালীন ১০ লাখ টাকা ও প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি অন্যথায় প্রাণনাশের হুমকিতে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। নগরীর মদিনা মার্কেট নিবাস বি/২৭নং বাসার বাসিন্দা রঙ্গুল বেগম বাদি হয়ে এই অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় ৭ জনের নামোল্লেখসহ আরো ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়। মামলার অন্য আসামীরা হচ্ছেন, কালীবাড়ি এলাকার শেবুল, পনিটুলার শাহজাহান ও বনকলাপাড়ার আতিক।
এ ব্যাপারে কতোয়ালী থানার ওসি গৌছুল হোসেন জানান, এজাহারনামীয়দের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
এজাহারে রঙ্গুল বেগম অভিযোগ করেন, তিনি স্বামী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাস করেন। তার অনুপস্থিতিতে নগরীর মদিনা মার্কেটে থাকা তাদের বাসা ও মার্কেট তার ভাগনা সৈয়দ কাউসার হোসেন দেখাশোনা করেন। কয়েক মাস আগে কাউসার ফোন করে জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী এমরান তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে বাসায় গিয়ে তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। কাউসারের নিরাপত্তার বিষয়টি ভেবে কিছু টাকা দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বলা হয়। এর প্রেক্ষিতে বাসা, মার্কেট রক্ষা ও জানমালের নিরাপত্তার ভয়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সময়ে এমরনাকে ২০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। এরপরেও ক্ষান্ত হয়নি চাঁদাবাজ এমরান। সে কাউসারকে প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে বলে। বিষয়টি জেনে তিনি স্বামীসহ স্বপরিবারে লন্ডন থেকে দেশে আসেন। দেশে এসে স্থানীয় কাউন্সিলর মোখলেছুর রহমান কামরান, মদিনা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতিসহ এলাকার গণ্যমান্য লোকজনকে বিষয়টি অবহিত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২২ এপ্রিল সন্ধ্যায় এমরান তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে ওই প্রবাসী মহিলার বাসায় যায়। এসময় এমরান তার চাহিদা অনুযায়ী মাসে ১৫ হাজার টাকা না দেয়ায় কাউসারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তিনি এর প্রতিবাদ করায় এমরান এককালীন ১০ লাখ টাকা নতুবা প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকা না দিলে জোরপূর্বক আমার বাসা-মার্কেট দখল করার হুমকি দেয়। আমি টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করলে এমরান তার হাতে থাকা রিভলবার কাউসারের মাথায় এবং অপর আসামী কবির আরেকটি রিভলবার বের করে আমার কপালে ঠেকিয়ে প্রণনাশ ও বাসা, মার্কেট দখল করার হুমকি দেয় বের হয়ে যায়।
এ ঘটনায় উক্ত নারী সোমবার সিলেট কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ তিনদিনের রিমান্ড আবেদন করেছে বলেও জানা গেছে।