নবীগঞ্জ প্রতিনিধি | ২৬ এপ্রিল, ২০১৭
নবীগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তার ভাইকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থী ও জনতা। তারা রাস্তায় নেমে টায়ারে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে।
বুধবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের রসুলগঞ্জ বাজারে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা।
প্রায় ২ ঘন্টা সময় ধরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে সড়কের উভয় দিকে কয়েক শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের। পরে নবীগঞ্জ থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
২৪ ঘন্টার মধ্যে স্কুলছাত্রের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে পরবর্তীতে আরো কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির ডাক দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা।
এ সময় এক প্রতিবাদ সভায় উক্ত বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জামাল মিয়ার সভাপতিত্বে ও শিক্ষক কামাল হোসেনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, বরইউরি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ফরিদ আহমদ, অভিভাবক কমিটির সদস্য কফিল উদ্দিন, হায়দর মিয়া, আতাউর রহমান মামুন, মুহিবুর রহমান, হারুন মিয়া, ইউপি সদস্য তোফায়েল, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি মো. সরওয়ার শিকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার হিমেল, থানার সেকেন্ড অফিসার মোবারক হোসেন, এস আই সুজিত চক্রবর্ত্তী প্রমুখ।
উল্লেখ্য, নবীগঞ্জের সীমান্তবর্তী বক্তারপুর আবুল খায়ের উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে একই প্রতিষ্টানের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র নবীগঞ্জের মুরাদপুর গ্রামের আব্দুর নুরের পুত্র শাহিনুর রহমান ফলক মোবাইলে কল দিয়ে প্রতিদিনই উত্যক্ত করে আসছিল। গত রোববার দুপুরে ফলক ওই ছাত্রীর মোবাইলে ফোন দিয়ে আপত্তিকর কথা-বার্তা বলে। এ খবর ছাত্রীটি তার বড় ভাই (একই প্রতিষ্টানের ১০ম শ্রেণির ছাত্র) তারেক আহমদের কাছে জানালে সে এর প্রতিবাদ করে।
এ ঘটনার জের ধরে ফলক তার চাচাতো ভাই আব্দুল আওয়াল সহ সহযোগীদের নিয়ে এর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য স্কুল ছুটির পর রসুলগঞ্জ নতুন বাজারের হামিদ মার্কেটের নিকট অপেক্ষা করতে তাকে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তারেক ওই স্থানে আসামাত্র তার ওপর হামলা চালায় বখাটে ফলক ও তার সহযোগীরা। হামলায় আহত হয়ে তারেক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্বার করে নবীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপালে প্রেরণ করেন।
ওইদিন সন্ধ্যায় হামলার ঘটনার সাথে জড়িত ফলকের চাচাতো ভাই আব্দুল আউয়ালকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। তবে মূল হামলাকারী ফলক এখনো পলাতক রয়েছে।