Sylhet Today 24 PRINT

‘পাগল’ ছেলেকে ভালো করতে ‘কবিরাজের’ প্ররোচনায় শিশুকে জবাই করে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৭ এপ্রিল, ২০১৭

'মাঝেমাঝে পাগলামি করা' ছেলে মুরাদকে নিয়ে কবিরাজ আব্দুর রউফের কাছে গিয়েছেলিন মিনারা বেগম ও হযরত আলী। কবিরাজ বলেন, কোনো এক মা’র এক সন্তানের রক্ত দিয়ে তাবিজ লিখে দিলে ছেলে ভাল হয়ে যাবে।

কবিরাজের মুখে এই কথা শুনে নিজেদের দুরসম্পর্কের আত্মীয় ও এক মায়ের এক সন্তান সুলতানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মুরাদ ও তার বাবা-মা। একরাতে বাড়ির পাশে একা পেয়ে সুলতানের মুখ চেপে ধরে পাশ্ববর্তী জনৈক ফয়জুরের জমিতে নিয়ে যায় মুরাদ।'

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শিশু সুলতান হত্যা মামলায় আদালতে জবানবন্দিতে এমন রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন মিনারা বেগম ও হযরত আলী।

ঘটনার তিন মাস পর এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আমিনুর রহমান। এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পুরান বালুচর এলাকার হযরত আলী (৫৫), তার স্ত্রী মিনারা বেগম (৫২) ও কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার ভূইয়ারপাড় এলাকার ‘কথিত’ কবিরাজ মোঃ রুহুল আমিন উরফে আব্দুর রউফ (৫৫)।

আব্দুর রউফ বর্তমানে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাড়ুয়া গ্রামের মুজিবুর রহমান মেম্বারের বাড়িতে ভাড়াটিয়া থাকেন। তাদেরকে গত মঙ্গলবার ও বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

এসআই আমিনুর জানান, আটক তিনজনের জবানবন্দি অনুযায়ী কবিরাজ আব্দুর রউফের প্ররোচনায় মোতাবেক খুন করা হয় শিশু সুলতানকে। কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেয় সুলতানের দুরসম্পর্কেও খালাত ভাই মুরাদ এবং তাকে সহযোগিতা করে মুরাদের পিতা হযরত আলী ও মাতা মিনারা বেগম।

মিনারা বেগম ও হযরত আলী জবানবন্দিতে জানান, তাদের ছেলে মুরাদ মাঝে-মধ্যে পাগলামি করত। একদিন তাকে নিয়ে তারা কবিরাজ আব্দুর রউফের শরণাপন্ন হন। এসময় কবিরাজ তাদের বলেন, কোনো এক মা’র এক সন্তান এর রক্ত দিয়ে তাবিজ লিখে দিলে সে ভাল হয়ে যাবে। এরপর তাদের দুরসম্পর্কের আত্মীয় ও এক মায়ের এক সন্তান সুলতানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মুরাদ ও তার বাবা-মা। ঘটনার দিন রাতে বাড়ির পাশে একা পেয়ে সুলতানের মুখ চেপে ধরে পাশ্ববর্তী জনৈক ফয়জুরের জমিতে নিয়ে যায় মুরাদ। সেখানে নিয়ে সুলতানকে কয়েকবার আছাড় মারে। একপর্যায়ে সুলতান অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে মাটিতে। পরে বাড়িতে গিয়ে দা নিয়ে আসে মুরাদ। এসময় তার সাথে তার মা মিনারা ও পিতা হযরত আলীও আসেন। মুরাদ সুলতানের গলায় দা চালিয়ে বডি থেকে মাথা পৃথক করে ফেলে। এসময় তার মা মিনারা বেগম সুলতানের হাত-পা ধরে রাখে। লাশের দু’টি অংশ বস্তাবন্দি করেন হযরত আলী। ফজুরের জমিতে পুঁতে রাখা হয় মস্তক এবং বডি রাখা হয় আসামীদের বাড়ির পিছনে ও জনৈক মিন্টু মিয়ার জমিতে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আলতাফ হোসেন জানান, শিশু সুলতানের ঘাতকরা তার দুরসম্পর্কের আত্মীয় হয়। কবিরাজ আব্দুর রউফের পরামর্শে ঘাতকরা সুলতানকে খুন করে। মূল হত্যাকারী মুরাদ পলাতক রয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, মুরাদের মা মিনারা বেগম ও পিতা হযরত আলী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে সুলতানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২০ জানুয়ারি রাতে নিখোঁজ হয় সুলতান। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুজি করেও তাকে না পেয়ে তার পিতা সবুজ মিয়া এলাকাজুড়ে মাইকিং করান। ২৫ জানুয়ারী দুপুর ২টার দিকে পুরান বালুচরের জনৈক ফয়জুর রহমানের জমিতে অর্ধেক পুঁতে রাখা একটি মস্তক পাওয়া যায়। পরদিন বিকালে একই এলাকার মিন্টু মিয়ার জমিতে মিলে বস্তাবন্দি মস্তকবিহীন লাশ। পরনের কাপড় দেখে লাশটির পরিচয় সনাক্ত করেন সুলতানের পিতা-মাতা। এ ঘটনায় সুলতানের মাতা পিয়ারা বেগম বাদী হয়ে আসামী অজ্ঞাতনামা রেখে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন (নং-২১)।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.