Sylhet Today 24 PRINT

অপর্যাপ্ত শিক্ষক, নেই ভবন, বৃষ্টি এলেই স্কুল ছুটি!

হামিদুর রহমান, মাধবপুর |  ২৮ এপ্রিল, ২০১৭

রয়েছে পর্যাপ্ত ছাত্র-ছাত্রী, কিন্তু নেই পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ, শিক্ষক ও বেঞ্চ। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের জায়গা না হওয়ায় মাঝে মাঝে বিদ্যালয় মাঠে ও গাছতলায় চলে পাঠদান। ছোট্র একটি কক্ষেই চলে শিক্ষকদের দাপ্তরিক কার্যক্রম। এতেও নেই কোন আসবাবপত্র।

২০১৩ সালের ১ জুলাই বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলেও এখনো পাচ্ছে না কোন সুযোগ সুবিধা। স্থানীয়দের অনুদান ও সরকারী মেরামতের সামান্য বরাদ্দের টাকা দিয়ে নির্মিত ৭০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি টিনশেড ঘরে চলছে কার্যক্রম। গাদাগাদি করে ছোট ছোট তিনটি শ্রেণিকক্ষে চলে এ পাঠদান কার্যক্রম। আবার বৃষ্টি হলেই বাধ্য হয়ে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দিতে হয়।

এমন জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়ে চলছে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের বীরসিংহ পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। দ্রুত বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এলাকার কিছু শিক্ষানুরাগী বিদ্যালয়টি স্থাপন করেন ১৯৯৪ সালে। অর্থ ও শিক্ষকের অভাবে এক সময় বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৯ সালে পূনরায় বিদ্যালয়টিতে আবার নতুন শিক্ষক নিয়োগ করে স্থানীয় উদ্যোগে বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্য্যক্রম চালু করা হয়। পরে বিদ্যালয়ের নিয়োগকৃত প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াছমিন, সহকারী শিক্ষিকা পারভীন আক্তার, আনোয়ারা বেগম, পাপিয়া সুলতানা নিজস্ব অর্থায়নে ভবনের জন্য ৩৩ শতক জমি ক্রয় করে বিদ্যালয়ের নামে দান করেন। বর্তমান সরকার বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালের ১ জুলাই তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ করে।

বর্তমানে প্রাক প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ১১১ জন শিক্ষার্থী ও ৪ জন শিক্ষক আছেন এ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের ২ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আর কোন বিদ্যালয় না থাকায় গ্রাম এলাকার দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা অনেক দূর-দূরান্ত থেকে গিয়ে ওই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। বীরসিংহ পাড়া গ্রামের দারিদ্র কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার এটিই একমাত্র ভরসা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াছমিন এ প্রতিবেদককে বলেন, বিদ্যালয়টি অনেক জরাজীর্ণ। এছাড়া বসার বেঞ্চ ও টেবিল নাই। কক্ষগুলো ছোট ছোট হওয়ায় গরমে অস্থির হয়ে পড়ি। শিক্ষামূলক কর্মকান্ডে বিদ্যালয়টি এগিয়ে থাকলেও ভবন না থাকায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। প্রাক্ প্রাথমিক শ্রেণিসহ কমপক্ষে ৬ জন শিক্ষক অতীব প্রয়োজন। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জন শিক্ষক দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য বাহারুল ইসলাম শাহাব উদ্দিন জানান, আমাদের বিদ্যালয়টি সবচেয়ে সুবিধা বঞ্চিত। এটি সরকারী হলেও সরকারী তেমন কোন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। সরকারীভাবে একটি ভবন পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়নি। নতুন ভবন তৈরি, শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণ, আসবারপত্র, পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থার সমস্যা, পানীয় জলের সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ধর্মঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল ইসলাম কামাল জানান, গ্রাম্য এলাকা হওয়ায় আশপাশে আর কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এ বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মানও ভালো। তবে বিদ্যালয়ে নানা সমস্যা বিরাজ করছে। বিশেষ করে একটি ভবনের অতি প্রয়োজন। সমস্যা সমাধানে শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ কামনা করছি।

মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের নানান সমস্যার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। কিন্তু নতুন ভবন না আসা পর্যন্ত কষ্ট করতে হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণে সুপারিশ করা হয়েছে অধিদপ্তরে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.