Sylhet Today 24 PRINT

দুই মাসেই এমবিবিএস ডাক্তার!

তপন কুমার দাস, বড়লেখা  |  ৩০ এপ্রিল, ২০১৭

মাত্র দুইমাস আগে নিজের নাম পদবী লেখা প্রেসক্রিপশনে তিনি ডি.ফার্ম (ঢাকা) ও ভি.এইচ.এফ.এ (চট্টগ্রাম) এই ডিগ্রী ব্যবহার করতেন। কিন্তু দুই মাস পর হঠাৎ করে সেই ব্যক্তি হয়ে গেছেন এমবিবিএস (এ.এম) ডাক্তার!

এখন প্রেসক্রিপশনে এমবিবিএস (এ.এম) ডিগ্রী ব্যবহার করে রোগী দেখছেন নিয়মিত। দুই মাসের ব্যবধানে এম.বি.বি.এস (এ.এম) ডিগ্রীধারী ডাক্তার বনে যাওয়া এ ব্যক্তির নাম শাখাওয়াত হোসেন আক্কাস।  

তিনি জুড়ী-ফুলতলা সড়কের কামিনীগঞ্জ বাজারে নিজস্ব চেম্বারে বসে সাধারণ মানুষের সাথে রমরমা প্রতারণা ও চিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে নোমান আহমদ নামে ভুক্তভোগী এক রোগী গত সোমবার জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।   

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জুড়ীর ফুলতলা রোডে নিজস্ব একটি চেম্বারে বসে নামের বাম পাশে ডা. উপাধি লিখে রোগি দেখেন শাখাওয়াত হোসেন আক্কাস। গত ২৬ নভেম্বর পরেশ কর নামে এক রোগীকে দেয়া ব্যবস্থাপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় শাখাওয়াত হোসেন আক্কাস নিজের ডিগ্রী উল্লেখ করেন ডি.ফার্ম (ঢাকা) ও ভি.এইচ.এফ.এ (চট্টগ্রাম)। যা সাধারণত একজন পল্লী চিকিৎকের ডিগ্রী হয়ে তাকে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারী সালা উদ্দিন নামে অপর এক রোগীকে তার দেয়া ব্যবস্থাপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় নামের নিচে তিনি এম.বি.বি.এস (এ.এম) ডিগ্রী উল্লেখ করেছেন।       

উপজেলার বড় ধামাই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে নোমান আহমদ জানান, গত ১২ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নেয়ার জন্য তিনি জুড়ী শহরে যান। ফুলতলা রোডে এম.বি.বি.এস লেখা সাইনবোর্ড দেখে ডা. শাখাওয়াত হোসেন আক্কাসের শরনাপন্ন হন। তিনি ঔষধ লিখে দিলে সেগুলো কিনে বাড়ি ফিরে যান। পাঁচদিন পরও অসুখ কমেনি বরং বাড়তে থাকে।
চিকিৎসক আক্কাস সম্পর্কে তার সন্দেহ শুরু হয়। ব্যবস্থাপত্রে এম.বি.বি.এস লেখা ডিগ্রী ও রেজিষ্ট্রেশনের ব্যাপারে বিএমডিসির ওয়েব সাইটে আক্কাসের রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ৯১৮৫ সার্চ দিয়ে দেখেন সেখানে মো. মনসুর রহমান নামে এক ডাক্তারের নাম রয়েছে। তখনই তিনি নিশ্চিত হন শাখাওয়াত হোসেন আক্কাস ভুয়া এম.বি.বি.এস ডিগ্রী নিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। জুড়ী উপজেলাবাসীকে প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে ‘ভূয়া এমবিবিএস’ ডাক্তার আক্কাসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গত সোমবার তিনি ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।  

বক্তব্য জানতে রবিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে অভিযুক্ত শাখাওয়াত হোসেন আক্কাস হোসের মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি রিসিভ করে খুব ব্যস্ত আছেন জানিয়ে লাইন কেটে দেন।
এর পর বিকেলে ০৪.১৭ মিনিট থেকে রাত ৯.৩০ ঘটিকা তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু চৌধুরী রবিবার (৩০ এপ্রিল) সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের কপি জুড়ী থানায় পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অফিসার ইন-চার্জকে বলা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’  

মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে সে একজন ভূয়া ডিগ্রিধারী ডাক্তার। তার যে ডিগ্রী রয়েছে তা বিএমডিসি কর্তৃক স্বীকৃত নয়। তার নামের আগে ডাক্তার লেখার কোন সুযোগ নাই। আগামী মঙ্গলবার (০২ মে) প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আমার কার্যালয়ে শুনানিতে হাজিরের জন্য তাকে (আক্কাসকে) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’        

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.