Sylhet Today 24 PRINT

জীবিকার তাগিদে মজুরি বৈষম্য মেনে নিচ্ছেন নারী শ্রমিকরা

শাকিলা ববি, হবিগঞ্জ |  ০১ মে, ২০১৭

এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন নারী শ্রমিকরা। বিশেষ করে অপ্রাতিষ্ঠানিক (ইটভাটা, পোশাক শিল্প, কৃষিকাজ, নির্মাণকাজ, গৃহশ্রম ও চাতালের কাজ) কর্মক্ষেত্রগুলোতে মজুরি বৈষম্য এখনো ব্যাপক আকার ধারণ করে আছে। পুরুষ শ্রমিকের সমান সমান বা কখনও বেশি কাজ করেও কম মজুরি পান নারীরা। আর এই মজুরি বৈষম্য মেনে নিয়েই পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন নারী শ্রমিকরা। এই বৈষম্য যে নারীরা সানন্দে মেনে নিচ্ছেন, তা কিন্তু নয়। জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে মেনে নিচ্ছেন এই মজুরি বৈষম্য।

হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের ব্যাজমেন্ট তৈরিতে কাজ করছেন কয়েকজন নারী। পুরুষ শ্রমিকদের চেয়ে তাদের সংখ্যা খুব একটা কম না। কেউ পাথর, কেউ সিমেন্ট ঝুড়িতে করে বহন করা সহ আনুসাঙ্গিক সকল কাজই করছেন।

তাদের একজন নবীগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের সালেকা খাতুন। মাথায় পাথরের ঝুড়ি । বৈশাখের রোদের তাপে ঘাম টপটপ করে পড়ছে তার শরীর থেকে। কথা বলতে চাওয়ায় ঝুড়ির পাথর মেশিনে দিয়ে আগ্রহের সাথেই আসলেন। সালেকা খাতুন জানান, প্রতিদিন ৪০০টাকা মজুরিতে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কাজ করেন তিনি। আপনার সাথের সকলেই কি ৪০০ টাকা মজুরি পান? প্রশ্নের জবাবে উত্তর আসে "না, বেটাইন্তে (পুরুষরা) ৫০০ টাকা কইরা মজুরি পায়।" তারা কি আপনাদের চেয়ে বেশি কাজ করেন? তিনি বললেন, "না, কাজ তো সমান ঐ করি। কিন্তু মজুরি তারা বেশি পায়।"

আর কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন সালেকা। কারণ অপর প্রান্ত থেকে ইশারা আসছে বেশি কিছু না বলার জন্য।

সালেকার সঙ্গেই কাজ করছেন সুরমা চা বাগানের মালতী। ভোর থেকে শুরু হওয়া তার জীবনযুদ্ধ নিয়ে তিনি বললেন, "ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঘর গুছিয়ে স্বামী-বাচ্চার জন্য রান্না করে বের হই কাজে। ঘরের কাজ শেষ করে শুরু হয় বাইরের কাজ। প্রায় প্রতিদিনই ঘরে-বাইরে সমান তালে কাজ করছি। আমরা সবাই জানি, সমান কাজ করেও পুরুষরা আমাদের চেয়ে বেশি মজুরি পায়। কিন্তু এ নিয়ে কাউকে কিছু বলার নাই। প্রতিবাদ করার মত সামর্থ্য নাই। কারণ একদিন কাজ না করলে চুলায় আগুন জ্বলবে না আমার ঘরে।"

এভাবেই এক শ্রেণির নারীরা ঘর-বাহির সামাল দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তাদের ঘরের কাজে যেমন নেই কোনো স্বীকৃতি, তেমনি বাইরের কাজ করেও শিকার হন মজুরি বৈষম্যের। হয়তো দিন শেষে এ বৈষম্যের কোনো কারণ খুঁজে না পেয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে তারা আজ এ মজুরি বৈষম্য মেনে নিচ্ছেন।

ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশে নারী শ্রমিকদের সংখ্যা বাড়ছে। শুধু গার্মেন্টসে নয়, নারী শ্রমিকদের একটা বড় অংশ কৃষিকাজে নিয়োজিত আছে অনেক আগে থেকেই। পাহাড়ি অঞ্চলের আদিবাসী নারীরা প্রায় সবাই শ্রমিক এবং তারাই তাদের পরিবার চালানোর জন্য শ্রম দেন। তারপরও এই শ্রমজীবি নারীদের নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয় পদে পদে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.