শাকিলা ববি, হবিগঞ্জ | ০১ মে, ২০১৭
৫০ ফুট উঁচুতে দড়ি আর বাঁশ দিয়ে তৈরি ঝুলন্ত মইয়ে বসে কাজ করছেন ২ জন রঙ মিস্ত্রি। এত উঁচুতে বসে বহুতল ভবনের লাল ইটগুলোকে সাদা করছেন তারা। নিচে থেকে দেখতে যতটা ভয়ানক লাগছিল এই কাজটা, কাছে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলে সেই ভয় আর রইলো না। মাটি থেকে প্রায় ৫০ফুট উঁচুতে ঝুলন্ত অবস্থায় কাজ করার সাথে সাথে কথাও বললেন খুব স্বাভাবিকভাবে। তাঁদের বাচনভঙ্গি আর কথা বলার ধরণ দেখে মনেই হয়নি এত উঁচুতে ভাসমান ২ জনের সাথে কথা বলছি।
হবিগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্মিত বহুতল ভবনে রঙ এর কাজ করছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জের শাহান ও বিশ্বনাথের নূর আলী। নূর আলী প্রায় ১৫ বছর যাবত এ কাজ করছেন। শাহান করছেন প্রায় ১০ বছর যাবত। প্রতিদিন ৫০০ টাকা মজুরিতে রঙ এর কাজ করেন তাঁরা। ঝুকিঁপূর্ণ কাজ করেন তারা, তাই মেহেদির রঙে এখনো হাত রাঙাতে পারেননি শাহান ও নূর আলী। ২ জনেই এখনো অপেক্ষায় আছেন তাঁদের রঙিন জীবন শুরুর।
ইট, পাথরের দেয়ালকে রঙিন করে তোলার কারিগর নূর আলী বললেন তার রঙহীন জীবনের কথা। বলেন, "ওউ রশির মাঝেই লখটাইল (ঝুলে আছে) আমার জীবন। সারাদিন ওউ রশির মাঝে লখটিয়া (ঝুলে) কাম করি। কোনো দুর্ঘটনা ছাড়া আল্লাহর দয়ায় এখনো ভালা ভাবে কাম কররাম। এই রঙ এর কাজ করার সময় ১৫ বছরে চকুর (চোখ) সামনে অনেক বড় বড় দুর্ঘটনা দেখছি। লেখাপড়া বেশ করছি না, এর লাগি রিক্স (ঝুঁকিপূর্ণ) ওর কাম জানিয়াও খরিয়ার (করছি)।"
শাহান বলেন, "যেবলা (যখন) কাম শুরু করছিলাম, অত উঁচা উঁচা বিল্ডিঙ ওর কাম দেখিয়া খুব ডর লাগত। কাম করতে করতে এখন আর ডর লাগে না। এখন যত উপরে উঠি, ততোউ ভালা লাগে। নিজেরে মনে হয় সব থাকি বড় আর হকল (সবার) থাকি সেরা।
শাহান ও নূর আলীর মতো আরো অনেক আছেন। ভোলা, কুষ্টিয়া, নারায়গঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার রঙ মিস্ত্রি কাজ করছেন এখানে। তাদের জীবন কাহিনীও প্রায় একই রকম। সংসার খরচ, ঋণ শোধ এ ধরণের সমস্যায় জর্জরিত তাদের জীবন। তাই জীবনের মায়া ছেড়েই বেছে নিয়েছেন এমন ঝুকিঁপূর্ণ পেশা।