সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৩ মে, ২০১৭
পার্শ্ববর্তী সংখ্যালঘু পরিবারের মূল্যবান ভিটে মাটি দখলে নিতে নানা রকম ষড়যন্ত্র করছেন উমরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইংল্যান্ড প্রবাসী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী। এজন্য পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে ভয় ভীতি দেখানোর পাশাপাশি মানসিক নির্যাতনও শুরু করেছে। উঠানে জবাই করা গরুর মাথা ও আবর্জনা ফেলে রেখে ধর্মীয়ভাবে আঘাত দেওয়া হয়। প্রভাবশালী এই পরিবারের নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির পুরুষ সদস্যদেরকে কাজে না গিয়ে বাড়ি পাহারা দিতে হয়। এই অবস্থা থেকে রেহাই পেতে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৃপাদৃষ্টি কামনা করেছেন।
বুধবার (৩রা মে) দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য প্রণধীর সূত্রধর।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রণধীর সূত্রধরের বোন ঝুমা সূত্রধর। লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, তারা ওসমানী নগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত গোয়ালাবাজার সিকন্দরপুর পশ্চিম গাঁওয়ের এক কাঠমিস্ত্রি পরিবারের সদস্য। পূর্ব পুরুষ থেকে প্রণধীর সূত্রধরের পরিবারের সদস্যরা কাঠমিস্ত্রি পেশার সাথে জড়িত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই পরিবার পকিস্থানী হানাদারসহ স্থানীয় রাজাকার বাহিনীর লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিল। আর এখন অত্যাচারের শিকার হতে হচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্রের দ্বারা।
১৯৭১ সালে থেকেই আশেপাশের কিছু লোকের দৃষ্টি পড়ে গ্রামের কাঠমিস্ত্রি পরিবারগুলোর প্রতি। এই চক্রের অত্যাচার জুলুম সহ্য করতে না পেরে অনেকেই ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়েছেন সেই সময় কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত প্রণধীর সূত্রধরের পরিবারটি রক্ষা পায়।
কিন্তু ১৯৮৪ সাল থেকে নতুন করে তাদের মূল্যবান প্রায় দেড় কিয়ার জমিটুকু আত্মসাৎ করতে মরিয়া ওঠে চক্রটি। সেসময় স্থানীয় মুরব্বিদের মাধ্যমে রক্ষা পায়।
কিন্তু‘ ২০১৫ সাল থেকে এই পরিবারটির প্রতি নুতন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ভূমিখেকো চক্রের পরিবারের সদস্য ইংল্যান্ড প্রবাসী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী দেশে এসে উমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এই সংখ্যালঘু পরিবারের উপর নির্যাতন বেড়ে যায়। তাকে বাড়িতে কাঠের কাজ করানো কথা বলে ডেকে নিয়ে নানা সময় ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় বাড়ির উঠানে কখনো জবাই করা গরুর মাথা, কখনো ভুঁড়ি ফেলে ধর্মকে আঘাত করার মাধ্যমে তাদেরকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করে।
চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া চৌধুরীর মামা ফয়জুল হক ও তার মামাতো ভাই ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য মাহফুজুল হক আখলু গ্রামের কিছু আত্মীয় স্বজনকে নিয়ে এই সংখ্যালঘু পরিবারের উপর নানারকম অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে। ধর্মকে অপমান করেই ক্ষান্ত হয়নি এই চক্র। পূজোর সময় চেয়ারম্যানের বাড়ির ছাদ থেকে গুলি করা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করার মতো ঘটনা ঘটানো হয়। বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকলে অসুস্থ মহিলাদের উপর নানাভাবে নির্যাতন গালিগালাজ করে। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদেরকে রোজগার বন্ধ রেখে ভিটে পাহারা দিতে হয়।
গত ৩০ এপ্রিল গোয়ালাবাজার থেকে ফেরার পথে চেয়ারম্যান ও আকলু বাহিনীর লোক প্রণধীরকে খুন করার চেষ্টা করে। তবে প্রাণে রক্ষা পেলে এ বিষয়ে তিনি ভীত হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি স্থানীয় ওসমানী নগর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মিনা সূত্রধর, আরতী সূত্রধর, প্রমেশ সূত্রধর প্রমুখ।