Sylhet Today 24 PRINT

শাবি ছাত্রলীগ নেতাদের যৌন হয়রানির প্রমাণ মিললো বিচার বিভাগীয় তদন্তে

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৪ মে, ২০১৭

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি)-এর ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার সিনিয়র সহকারী জজ ও জেলা লিগেল এইড কর্মকর্তা তাসলিমা শরমিন এই তদন্ত প্রতিবেদন সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মুহিতুল হকের কাছে প্রদান করেন।

প্রতিবেদনে শাবি ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ রিয়াদ ও মাহমুদুল হাসান রুদ্রর বিরুদ্ধে সরাসরি যৌন হয়রানিতে সম্পৃক্ত থাকার প্রমান পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া শাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সন্দিপন চক্রবর্তী পার্থ যৌন হয়রানি ও সাংবাদিকদের মারধরে সহযোগীতা করার প্রমাণ মিলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তদন্তে অভিযোগের প্রমান পাওয়া প্রসঙ্গে শাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিবন চক্রবর্তী পার্থ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, এ আমি আমার বক্তব্য আদালতেই উপস্থাপন করবো।

এ ব্যাপারে বাদীপক্ষের আইনজীবী মসরুর চৌধুরী শওকত সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আজ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। আগামী তারিখে আদালত বাদীকে ডেকে আনবেন। এই প্রতিবেদনে বাদী সন্তোষ প্রকাশ করলে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তবে এই প্রতিবেদনে নিজে সন্তুষ্ট বলে জানান বাদীর এই আইনজীবী।

গত ১২ এপ্রিল সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞতানামা আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে মামলা করেন মাহমুদা বেগম নামের এক নারী। মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে গত ৮ এপ্রিল শাবি শহীদ মিনারের সামনে তার মেয়েকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ করেন মাহমুদা বেগম।

মাহমুদা বেগমের মেয়ে এবছর নগরীর পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয়। ওই দিন এক আত্মীয়ের সাথে শাবিতে বেড়াতে গিয়ে সে যৌন হয়রানির শিকার হয় বলে মামলায় অভিযোগ করেন তার মা।

মামলা দায়েরের পর ওইদিনই বিচারক মুহিতুল হক বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। সিনিয়র সহকারী জজ ও জেলা লিগেল এইড কর্মকর্তা তাসলিমা শরমিন এই তদন্তের দায়িত্ব পান।

বৃহস্পতিবার জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে তাসলিমা শরমিন উল্লেখ করেন, ভিকটিমের প্রতি আসামী রিয়াদ অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে ও সিগারেটের ধোয়া ছুড়ে। আসামী রুদ্র ওই মেয়েকে চড় থাপ্পর মারে ও অশ্লীষ ভাষা ব্যবহার করে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির অপরাধ সংঘটিত করছে মর্মে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এই আসামীরা বিশ্ববিদ্যালয় গোল চত্বরে সাক্ষী নবিউল দিপু ও সর্দার আব্বাসকে মারধর করারও প্রমাণ মিলেছে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, অপর আসামী পার্থ ঘটনার সময় আক্রান্ত ছাত্রীর সাথে থাকা ফুফাতো ভাই আসিফ আলীকে মারধর করে, পরবর্তীতে সাক্ষী জাহিদ হাসানের কাছ থেকে মোবাইলে ধারণকৃত ছবি মুছে দিয়ে, পত্রিকায় খবর ছাপা হওয়ার হুমকি দিয়ে, ভিকটিম ছাত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে ও সাক্ষী নবিউল দিপু ও সর্দার আব্বাসকে মারধরের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও যৌন হয়রানির কাজে সহযোগিতা করেছে বলে প্রতিয়মান হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.