নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ মে, ২০১৭
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের হাওরপাড়ে কৃষক সমাবেশে বক্তারা, হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সকল ঋণ মওকুফ, জলমহাল লিজ প্রদান বন্ধ, ত্রাণ কার্যক্রম বৃদ্ধি, হাওরপাড়ের মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বাঁধ নির্মাণে অনিয়মকারীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে তাহিরপুরের উপজেলা কমপ্লেক্স সংলগ্ন মাঠে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, এনজিও ব্যক্তিত্ব খুশি কবির, সাংবাদিক মুন্নী সাহা, মানবাধিকার কর্মী সুব্রত চৌধুরী, আইনজীবী সুপ্রিয় চক্রবর্তী, তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বক্তব্য রাখেন।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে ‘হাওরপাড়ের কৃষক সমাবেশ’ নামে এই আয়োজনে এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, প্রায় প্রতিবছর অকাল বন্যায় হাওরের ফসল তলিয়ে যায়। তাই আর স্বল্পমেয়াদী কোনো সমাধান নয়, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের কথা ভাবতে হবে। হাওরের সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে।
তিনি বলেন, হাওরের বাঁধ নির্মাণে গাফিলতি ও অনিয়মের সাথে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আগামীতে যাতে এমন গাফিলতির ঘটনা না ঘটে এ জন্য নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।
উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা নিজেরা করি’র প্রধান নির্বাহী খুশি কবির বলেন, হাওরপাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সকল ঋণ পূর্ণ মওকুফ করতে হবে।
হাওরের কৃষকদের জন্য ত্রাণ সহায়তা অপ্রতুল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ত্রাণ কেবল তিনমাসের জন্য দিলে হবে না। আগামী ফসল ঘরে তোলার পূর্ব পর্যন্ত কৃষকদের ত্রাণ দিতে হবে।
এছাড়া গ্রামাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্তরা ত্রাণ বঞ্চিত হচ্ছেন। এজন্য নির্দিষ্ট পয়েন্টে ত্রাণ বিতরণ না করে বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁছানো উচিত। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার হাওরসহ বিভিন্ন জলমহাল লিজ প্রদান না করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকার লোকজনদের মাছ ধরার জন্য জলাশয়গুলো উন্মুক্ত রাখতে হবে।
সমাবেশে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা।
দাবিগুলো হলো- হাওরাঞ্চলের সকল ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ক্ষতিপূরণ প্রদান, হাওর তীরবর্তী সকল নদী ও খাল খনন, হাওরের কিছু জায়গায় স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ, যাদের দুর্নীতি ও অবহেলায় হাওরের বাঁধ নির্মাণ হয়নি তাদের বিচার নিশ্চিত করা, হাওরাঞ্চলের সকল কৃষি ঋণ ও ক্ষুদ্র ঋণ মওকুফ করা এবং হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষা করে হাওরের সম্পদ সুরক্ষা করা।