Sylhet Today 24 PRINT

গৃহবধূ রহিমা হত্যা মামলা: ২২ দিনেও গ্রেপ্তার হননি প্রধান আসামি

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১০ মে, ২০১৭

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্ব পাগলার বেতকোনা গ্রামের গৃহবধূ রহিমা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি রহিমার দেবর জিতু মিয়াকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারে নি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ৩ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় জিতুর সাথে আর কারা জড়িত সে বিষয়টি খোলাসা হচ্ছে না।

১৮ এপ্রিল বেতকোনা গ্রামের মোজাহিদুল ইসলাম মুজার স্ত্রী রহিমাকে মারধরের পর বিষাক্ত কিছু খাইয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। ওইদিন সকালে রহিমাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুপুরে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাবুল মিয়া বাদি হয়ে ওইদিন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানায় মামলা (নং ২২(৪)১৭ করেন। মামলায় দেবর জিতুকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত ২/৩ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার বাদি নিহতের ভাই সিলেটের জালালাবাদ থানার মিরের গাওয়ের বাবুল মিয়া জানান, ঘটনার পর জিতুকে ঘরে আটকিয়ে রাখা হলেও অজ্ঞাত কারণে কিছু লোক তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। হত্যার সাথে জড়িতরা নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তিনি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৮ বছর আগে সিলেট সদরের মীরের গাওয়ের আব্দুল হাশিমের মেয়ে রহিমার বিয়ে হয় বেতকোনা গ্রামের মনোহর আলীর ছেলে মোজহিদুল ইসলাম মুজাইর সাথে। পারিবারিক কলহ না থাকলেও মুজার ভাই তিন সন্তানের জনক জিতু প্রায়ই রহিমার বোনকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিত। এ নিয়ে প্রায়ই রহিমার সঙ্গে দেবর জিতুর ঝগড়া হতো। ঘটনার দিন সকালে জিতু মারধর করে রহিমাকে। এক পর্যায়ে মুখে কীটনাশক ঢেলে দেয় জিতু। অজ্ঞান অবস্থায় প্রথমে তাকে কৈতক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে রহিমার স্বামী মুজাই ও স্বজনরা। দুপুরে রহিমা মারা যান। তবের এখনও ময়না তদন্তের রিপোর্ট পায়নি পুলিশ।

রহিমার ভাই বাবুল মিয়া জানান, ঘটনার পর থেকে স্বজনদের কার্যক্রমে সন্দেহ দেখা দেয়। ঘটনার দিন মুজাইর সাথে ছিলেন রহিমার খালাতো ভাই এনাম। তাকে সঙ্গে রাখতে চান নি মুজাই। এমনকি হাসপাতালে সঙ্গে ছিলেন মুজাই ও জিতুর মামা সিরাজ এবং তাদের দুই বোন। রহিমার মারা যাওয়ার আগেই হাসপাতাল ছাড়েন সিরাজ ও এক বোন। মারা যাওয়ার পর আরেক বোন হাসপাতাল থেকে সটকে পড়েন।

তিনি আরো জানান, ঘটনার পর জিতুকে ঘরে আটকে রাখেন প্রতিবেশী কালাম, কুটু মিয়া ও সিরাজসহ কয়েকজন। কিন্তু পরে জিতুকে তারা পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফারুক আহমদ বলেন, আমরা একাধিকবার আসামি ধরতে অভিযান চালিয়েছি। রিমোট এলাকা হওয়ায় যোগাযোগ করতে বেগ পেতে হয়। তার পরও আমরা চেষ্টা করছি তাকে গ্রেপ্তারে। জিতু গ্রেপ্তার হলে এবং ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়া গেলে কিভাবে কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে তা খোলাসা হবে।


টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.