হবিগঞ্জ প্রতিনিধি | ১২ মে, ২০১৭
'আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে, এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে" গানের সাথে আধাঁরের বুক চিড়ে আলোক শিখা জ্বলে উঠে মঞ্চে। প্রদীপ প্রজ্বলনের পাশাপাশি প্রজেক্টরে দেখা যাচ্ছে রবীন্দ্রনাথের দেখা অদেখা ছবি।
" আজি এ প্রভাতে রবির কর, কেমনে পশিল প্রাণের পর" "ঘরেতে এলো না সে তো মনে তার নিত্য আসা যাওয়া" " যদি প্রেম দিলে না প্রাণে কেন ভোরের আকাশ ভরে দিলে এমন গানে গানে " প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের পর এরকম রবীন্দ্রনাথের প্রায় ১৫টি কবিতা, গানের লাইন, উক্তি দিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করে কবি প্রণাম করেন চারকন্ঠের শিল্পীরা।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৬ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে "এক সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনাথ" শিরোনামে গল্প, কবিতা, গানের সহ রবীন্দ্র অনুরাগীদের সাথে এক বৈঠকি আড্ডার আয়োজন করে চারুকন্ঠ।
১২ মে (শুক্রবার) সন্ধ্যা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত সুরবিতান ললিতকলা একাডেমিতে চারুকন্ঠের শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর সৃজনশীল পরিবেশনা দর্শকদের প্রসংশা কুড়ায়।
‘২৫শে বৈশাখ জন্ম নেওয়া মানুষটি আসলেই কে? কবি, ঔপন্যাসিক,নাট্যকার,সমাজ সংস্কারক? নাকি নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী অনুভূতিপ্রবণ মানুষ যিনি প্রসন্ন বিকেলে বয়ে যাওয়া রিনরিনে হাওয়াকেও বন্দী করেন নিজের গানে? নাকি তিনি সেই মানুষ যিনি সাফল্যের সর্বোচ্চ চুড়ায় উঠেও প্রতিনিয়ত এক হাতে কলম অন্য হাতে চাবুক নিয়ত নিজেকে ভেঙ্গেছিলেন। নাকি তিনি সেই স্কুল পালানো ছেলে যিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠার জন্য নিজেকে স্কুলিং করেছিলেন ? নাকি তিনি সেই রবী ঠাকুর যিনি নিজের মেয়ের মৃত্যুর দিন বঙ্গভঙ্গ নিয়ে অধিবেশন করেছিলেন? নাকি তিনি সেই রবী যে রবীর অস্ত যায়নি ১৫৬ বছর পরেও?’ এমন অন্তর চষে বেড়ানো প্রশ্ন নিয়ে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন চারুকন্ঠের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অজয় রায়।
বৈঠকি আড্ডায় সমাজ সংস্কারক রবীন্দ্রনাথ বিষয়ের উপর বলেন- প্রমথ সরকার, রবীন্দ্রনাথ ও বর্তমান প্রাসংগীকতা নিয়ে বলেন অনিরুদ্ধ কুমার ধর শান্তনু, শান্তি নিকেতন ও রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা ভাবনা নিয়ে বলেন সহযোগী অধ্যাপক ইলিয়াস বখত চৌধুরী জালাল, কোন রবীন্দ্রনাথ শক্তিশালী? নিয়ে বলেন সিদ্দিকি হারুন, সার্বজনীন রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে বলেন বাংলা প্রভাষক আজহার শাহিন।
এছাড়াও রবীন্দ্রনাথ নিয়ে কথা বলেন , অতিরিক্ত স্থানীয় সরকার উপপরিচালক শফিউল আলম, প্রভাষক তানসেন আমীন, খোয়াই থিয়েটারের সভাপতি নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটু, খেলাঘর আসড় কেন্দ্রেীয় কমিটির সদস্য বাদল রায়, সাংবাদিক রফিকুল হাসান তুহিন, বাপা সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল, সুরবিতান ললিতকলা একাডেমির সাধারন সম্পাদক আবুল ফজল, জালাল উদ্দিন রুমি, কবি অপু চৌধুরী, কবি সাইফুর রহমান কায়েস,দিপুল রায়, বন্ধু মঙ্গল রায় প্রমুখ।
এই বৈঠকি আলোচনার ফাঁকে রবীন্দ্রনাথের গান, কবিতা, নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
সব শেষে রবীন্দ্রানথের জুতা আবিস্কার কবিতা অবলম্বনে একটি দৃশ্যকাব্য মঞ্চস্থ করা হয়। দৃশ্যকাব্য পরিচিলনা করেন অজয় রায় ও দিবাকর দিব্য।
এছাড়াও বৈঠকি আড্ডায় আমন্ত্রীত অতিথিদের কে পরিবেশন করা হয় রবীন্দ্রনাথের প্রিয় খাবার লুচি, ডালনা, মালপোয়া ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চারুকন্ঠের দলনেতা গৌরি রায়। বিভিন্ন পরিবেশনায় ছিলেন, জুয়েল, কমল, দিবাকর কর দিব্য, মনিষা, বন্যা, শ্রাবনী, পম্পা।