বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি | ১৩ মে, ২০১৭
বিয়ানীবাজারে প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদে ও তাঁর বদলীর দাবিতে ক্লাস বর্জন করেছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। ওই বিদ্যালয়ের ৬৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কেউই শনিবার (১৩ মে) বিদ্যালয়ে যায়নি। তাদের এক দফা দাবী- প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিনকে প্রত্যাহার করতে হবে। যতদিন তাঁকে বদলী করা না হয়, ততদিন তারা বিদ্যালয় বর্জন করবে।
বিদ্যালয়ে চলমান এ অবস্থা সম্পর্কে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার কুড়ার বাজার ইউনিয়নের শাহজালাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিনকে বদলী করার জন্য গত ১৩ এপ্রিল এলাকাবাসী, ব্যবস্থাপনা কমিটি ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়। আবেদনে প্রধান শিক্ষকের শালীনতা বিবর্জিত ও অনৈতিক কর্মকান্ড, শ্রেণিকক্ষে উচ্চস্বরে গানবাজনা এবং ধুমপানের অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাছুম মিয়া। তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষককে বদলীর জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তাঁকে এর আগেও চারখাই এবং মাথিউরার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
এলাকার মুরুব্বি নুরুল আমিন বলেন, এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়টি তার ইচ্ছে মতো পরিচালনা করছেন। ক্লাসরুমে উচ্চস্বরে গানবাজনা, ধুমপান, ছাত্র-ছাত্রীদের বেত্রাঘাতসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল হোসেন লস্কর জানান, দু'বছর ধরে কমিটির সদস্যদের সাথে তাঁর কোন সম্পর্ক নেই। তিনি স্বাক্ষর জাল করে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। ওই শিক্ষকের অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ এবং তাকে বদলীর দাবিতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না বলে জানান তিনি।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ের বেশকিছু জমি বেদখল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমি ইউএনও'র কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এ কারণে আমার বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র চলছে।
ক্লাসরুমে উচ্চস্বরে গানবাজনা, ধুমপান, ছাত্র-ছাত্রীদের বেত্রাঘাত এসব অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।