Sylhet Today 24 PRINT

সিলেট সাব রেজিস্টার অফিস থেকে দলিল চুরি, তুলকালাম

এক দলিল লেখকের ভাইসহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১০ মে, ২০১৫

দলিল ও পে-অর্ডার চুরির দায়ে জড়িত সন্দেহে আটককৃত দুইজন

সিলেটে সদর সাব রেজিস্টার অফিস থেকে দলিল ও লক্ষাধিক টাকার পে-অর্ডার চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরাই পে-অর্ডারটি ভাঙাতে গেলে সংশ্লিষ্টরা চোর চক্রের এক সদস্যকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যে এ ঘটনায় এক দলিল লেখকের ভাইয়ের সম্পৃক্ততাও পাওয়া যায়। পে-অর্ডারের পাশাপাশি চোরাই দলিলটি ছেড়া অবস্থায় পার্শ্ববর্তী একটি হোটেলের ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার করা হয়।

রোববার দুপুর থেকে নগরীর তালতলায় সাব রেজিস্টার অফিসে এনিয়ে তুলকালাম শুরু হয়। রাত সাড়ে ৮ টায় এনিয়ে সাব রেজিস্টার অফিসে বৈঠক চলছিল। তবে পুলিশকে এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি বলে জানান কোতোয়ালি থানার ওসি সোহেল আহমদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার গোলাপগঞ্জের চারখাই এলাকার জামান আহমদ সিদ্দিকীর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা মূল্যে একই এলাকার আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী জায়গা ক্রয় করতে সিলেট সাব রেজিস্টার অফিসে আসেন। রেজিস্টারি খরচ বাবদ ৪ টি চেকে ১ লাখ ৮ হাজার দুই’শ টাকার পে-অর্ডার দেওয়া হয়। রেজিস্টারি (নম্বর ৫১/৯৯) সম্পাদনের পর সাব রেজিস্টার অফিস সহকারী আবদুস সাত্তারের টেবিল থেকে দলিল ও পে-অর্ডারের টাকা খোঁয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সাব রেজিস্টার অফিস থেকে বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে সোনালী ব্যাংকে অবহিত করা হয়। পরে চোর চক্রের দুই সদস্যকে আটকের পর পে-অর্ডার ও দলিল উদ্ধার করা হয়।

একাধিক সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে ইমন নামে এক যুবক চারটি পে-অর্ডারের মধ্যে ১২ হাজার একটি পে-অর্ডার নিয়ে সোনালী ব্যাংকের কোর্ট বিল্ডিং শাখায় ভাঙাতে যায়। এ অবস্থায় খবর পেয়ে সাব রেজিস্টার আবু তালেম মিয়া গিয়ে যুবকটিকে ধরে অফিসে নিয়ে আসেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রমজান আলী নামে এক দলিল লেখকের ভাই বিলালকে আটক করা হয়।

সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়ার বাসিন্দা ইমন আবদুল কুদ্দুসের ও বিলাল মহরম আলীর ছেলে।

সাব রেজিস্টার আবু তালেম মিয়া জানান, বিষয়টি জেলা রেজিস্টারকে অবহিত করার পর আটককৃতদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রেজিস্টারি অফিসে আটক ইমন উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের জানায়, ১২ হাজার টাকার পে-অর্ডারটি ভাঙানোর জন্য বিলাল তাকে দেয়। অন্যদিকে বিভিন্ন প্রশ্নে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া বিলাল একবার পে-অর্ডারটি সে কুড়িয়ে পেয়েছে জানালেও আরেকবার বলেছে তার ভাই দিয়েছে।

সিলেট জেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সায়েক আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ‘বৈঠকে আছেন’ জানিয়ে পরে যোগাযোগ করার কথা বলেন।

সিলেট সদর সাব রেজিস্টার আবু তালেব মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তিনি নিজে ব্যাংকে গিয়ে যুবককে ধরে নিয়ে আসেন। পরবর্তী পদক্ষেপের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেলা রেজিস্টারটি অবহিত করার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.