Sylhet Today 24 PRINT

আইপিএল নিয়ে সিলেটে জুয়ায় মেতেছে বাজিকররা

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২০ মে, ২০১৭

ভারতে চলছে ক্রিকেটে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রিমিয়ার লীগের আসর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। আর এই আসরকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বসেছে জুয়ায় আসর। বাজির নামে এমন জুয়াতে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকেই। যাদের বেশিলভাগই তরুণ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর বিভিন্ন জায়গার বেশ কয়েকটি চায়ের দোকান, সেলুন, স্বর্নের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলছে আইপিএল কেন্দ্রীক জুয়ার ছোট বড় আসর।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কিছু দোকান মালিকরা বাজিকরদের মাধ্যম হিসেবে টাকা জমা, আদান প্রদানসহ বাজি ধরার জন্য জুয়াড়িদের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। আইপিএল এর ম্যাচ চলাকালীন জুয়ার কারণেই জটলা বেধে যায় মোড়ের দোকানগুলোতে।

কালাম (ছদ্মনাম ) নামের এক বাজিকর বলেন, আইপিএল ঘিরে চলছে বাজিকরদের রমরমা বাজি। তাঁদের এলাকার একটি গলির চায়ের দোকানে আইপিএল খেলা দেখার সময় প্রতি রাতেই বাজি হয়।

তিনি জানান, আইপিএল এর প্রতিটি ম্যাচের প্রায় প্রতিটি বিষয় নিয়েই বাজি ধরা হয়। এক ম্যাচের পাওয়ার প্লে তে কত রান হবে, ৫-১০ ওভারে কত রান হবে, খেলায় কে কতটি উইকেট পাবে, কে কত রান করবে, প্রতি বলে যেমন বাজি হয়, তেমনি স্কোর ও খেলায় হারজিত নিয়েও বাজি ধরা হয়।

কালাম জানান, ১০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকা পর্যন্ত বাজি চলে, এমনকি দলে কে কে থাকবে না থাকবে অথবা টসে কে জিতবে না জিতবে এ নিয়েও বাজি ধরা হয়।

এছাড়াও অনলাইনে ক্রীড়া বিষয়ক বৈধ বেটিং সাইটের মাধ্যমেও খেলা হচ্ছে জুয়া। ‘বেট৩৬৫ ডটকম’ নামের যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ওয়েবসাইটে সব ধরনের খেলার আপডেটের পাশাপাশি বাজি ধরার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেখানেও চলে আইপিএলের বাজির হিড়িক।

পুলিশ ও বিসিবির সহযোগিতায় গত বছর এমন ১২টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলো বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিটিআরসি) ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করে দিলেও প্রক্সি সার্ভার দিয়ে এখনো সাইটগুলোতে ঢোকা যাচ্ছে এবং অবাধে জুয়া খেলাও  চলছে।

বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা যায়, নগরীর নিম্নআয়ের লোকজনের বসতি যেখানে আছে এমন এলাকার চায়ের দোকান, গলির ভেতর, বিভিন্ন ক্লাব-সমিতির অফিসে আইপিএল নিয়ে জুয়াখেলা চলছে।

বেশ কিছু বাজিকরদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাজিতে কেউ জয় লাভ করুক আর পরাজিত হোক কেউ বাজির টাকা পরিশোধে গড়িমসি করে না বরং বিকাশের মাধ্যমে তা পরিশোধ করা হয়।

বন্দরের বিকাশ এজেন্ট একটি মোবাইলের দোকানদার নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আমি মাস দেড়েক আগে ইয়ামাহার একটি ফেজার বাইক কিনেছিলাম, কিন্তু আইপিএলের এই জুয়ার নেশায় আমি আমার নতুন বাইকটি হারিয়েছি।

তার মতো আরেক ব্যবসায়ি বলেন, আমি জুয়া খেলতে খেলতে অনেক টাকা ঋণ করে ফেলেছি, এখন বুঝে উঠতে পারছি না এই ঋণ পরিশোধ করব কিভাবে?

নগরীর কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রঞ্জু (ছদ্মনাম) জুয়ার নেশায় ঋণগ্রস্ত হয়ে নিজেদের ৪তলা বিল্ডিং বিক্রি করেছেন বলেও জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো এক জুয়াড়ি জানান, আইপিএলের প্রতিটি খেলায় আমার মাধ্যমে ভেঙ্গে ভেঙ্গে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা হয়। প্রতিদিন আমার আয় প্রায় ১০ হাজার টাকা। এ টাকায় আমার সাথে আরও ১০ জন কাজ করছে। তাদের কাজ হচ্ছে নতুন প্রজন্মের ছেলেদের উৎসাহিত করা।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘বিষয়টি এর আগেও আমি শুনেছি, এ বিষয়ে নজরদারি সহ বিশেষ অভিযানও চালানো হচ্ছে। জুয়ার বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাই তবে আইপিএল বা ক্রিকেট খেলা নিয়ে জুয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে অবশ্যই অভিযান চালানো হবে।’

এছাড়া ও সকলের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, সমাজের সকল অপকর্ম থেকে রেহাই পেতে অভিভাবকদের দৃঢ় সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক নজরদারি খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.