নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ মে, ২০১৫
বিজ্ঞান লেখক ও মুক্তমনা ব্লগার অনন্ত বিজয়ের হত্যার পর চলছে বিচার চেয়ে আন্দোলন। প্রগতিশীল প্রতিটি আন্দোলনে সোচ্চার অনন্তের জন্য দেশে বিদেশে চলছে আহাজারি, হচ্ছে প্রতিবাদ।
অনন্তের ফেসবুক পেজের টাইমলাইন ঘুরে দেখা গেল তাঁর শৈশব কৈশোরের ফেলে আসা বন্ধুরাও স্মৃতি রোমন্থন করছেন। অনন্তের জন্য ব্যতিথ হচ্ছেন। জানাচ্ছেন ভালোবাসা, আর অনন্তের চেতনাকে
সমুন্নত করার প্রত্যয়ও শোনাচ্ছেন অনেকে।
ব্লু--বার্ড স্কুলে চতুর্থ শ্রেণী থেকে পড়াশোনা করে ১৯৯৯ সালে এসএসসি পাশ করেন অনন্ত। সেসময়কার বন্ধু বিশ্বজিৎ দে হাতে লেখা একটি চিঠি পোষ্ট করেছেন অনন্তের টাইমলাইনে।
সিলেট টুডের পাঠকদের উদ্দেশ্যে সেই চিঠিটি হুবহু তোলে দেয়া হল:
প্রিয় বন্ধু অনন্ত,
অনেক দিন পর আজ লিখতে বসলাম, ব্লু বার্ড স্কুলে বীথি টিচারের ক্লাসে দুইটা ফাতরা (দুষ্ট) ছিল, আজ এই পৃথিবীতে বীথী টিচারও নেই, সঙ্গে একটা ফাতরা (দুষ্ট) নেই। ব্লু-বার্ড (১৯৯৯ ব্যাচ) তিন গোয়েন্দা নামে একটা সংগঠন ছিল, যাদের কাজ ছিল টিফিনের টাকা একত্রিত করে বই কেনা। এবং ক্লাসে অন্যদের বই চুরি করা, গতকাল সেই তিন গোয়েন্দাদের এক গোয়েন্দা পৃথিবী থেকে বিদায় নিলো।
আমি অনন্তর সহপাঠী ছিলাম চতুর্থ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত। এবং সেই সময়ে আমরা একে অপরের খুবই কাছের বন্ধু ছিলাম, আমার কৈশোরের অনেক সুখকর স্মৃতির উপলক্ষ ছিল অনন্ত। আজ সকালে ফেসবুকের মাধ্যমে যখন তোর বিদায়ের খবর
জানলাম তখন পুরনো সেই দিনগুলোর স্মৃতি ছায়াছবির মত আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল । আজ নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয় যে আমার মত সাধারণ একটা ছেলে তোর সান্নিধ্যে সাতটা বছর ছিল।
অনন্ত আজ শুধু একজনের নামই না। অনন্ত আজ "মৌলবাদ" , "ধর্মান্ধতা" "ধর্মীয় গোঁড়ামি"র বিরুদ্ধে সোচ্চার এক চেতনা, আমাদের সকলের অন্তরে অনন্ত নামের চেতনা কম বেশি সোচ্চার। কিন্তু জগত সংসার, পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক চাপে আমাদের অন্তরের অনন্ত লুপ্তপ্রায়। চারিদিকে তাকালে দেখি তৃতীয় লিঙ্গের ভিড়ে তুই একমাত্র অকুতোভয়, নির্ভীক, প্রাণবন্ত এক পুরুষ। অপরাধ দেখেও মুখ বুঝে থাকা অবিচারের সাথে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় সমঝোতা করা প্রতি মুহূর্তে মাঝে মাঝে নিজেকেও তৃতীয় লিঙ্গের মনে হয়। দোস্ত তুই যেখানেই থাকিস ভাল থাকিস। লাল সালাম এবং চির বিদায় বন্ধু
ইতি বিশ্বজিৎ দে