নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ মে, ২০১৫
শুক্রবার চেম্বার কনফারেন্স হলে দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংক এর গভর্নর ড. আতিউর রহমান এর সাথে সিলেট চেম্বার নেতৃবৃন্দ ও সিলেটের ব্যবসায়ী সমাজের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট চেম্বারের সভাপতি সালাহ্ উদ্দিন আলী আহমদ।
স্বাগত বক্তব্যে চেম্বার সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এর বর্তমান গভর্নর দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে যেভাবে পরিচালনা করছেন তা বিশ্বের অনেক দেশ অনুকরণ করছে। তিনি “বেস্ট গভর্নর অব এশিয়া” নির্বাচিত হওয়ার জন্য ড. আতিউর রহমান-কে সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান। তিনি বিগত চার মাসের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের ঋণের সুদ মওকুফ, ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত এলসি করার ক্ষেত্রে সুইফ্ট চার্জ আরোপ না করা, মেয়াদউত্তীর্ণ এলসি নবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, সিলেট শাখাকে নবায়নের ক্ষমতা প্রদান করা, সোনালী ব্যাংকের সকল শাখায় ট্রাভেল ট্যাক্স গ্রহণ এবং এ জন্য অন্যান্য ব্যাংককেও ক্ষমতা প্রদানের প্রস্তাব করেন।
এছাড়াও তিনি সরকারী ব্যাংকগুলোকে অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসা, সকল ব্যাংকের সকল শাখায় ছেঁড়া নোট গ্রহণের বিধান করা এবং ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার দাবী জানান।
সভায় বক্তাগণ সিলেটের তামাবিল ও শেওলা স্থল শুল্ক স্টেশনে দুইটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা স্থাপন, দোকান কোঠা পজিশন সহ ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ প্রদান, এগ্রিকালচারাল মেশিন ম্যানুফ্যাকচারারদের কৃষিভিত্তিক শিল্পের আওতায় এনে কৃষি ঋণ প্রদান, ব্যাংক ঋণের সুদ কোয়ার্টারলি আরোপ না করে বাৎসরিকভাবে তা প্রদানের ব্যবস্থা করা, নারী ও এসএমই উদ্যোক্তাদের ৮% সুদে ঋণ প্রদান, ইটভাটাগুলোকে জিগজ্যাগ পদ্ধতিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সহজশর্তে ঋণ প্রদান সহ আরো বিভিন্ন দাবী গভর্নরের কাছে তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক উদারভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি তারা সামাজিক কর্মকান্ডেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু কর্পোরেট ট্যাক্স অত্যন্ত বেশী হওয়ায় এবং সকল ঋণের টাকা সঠিকভাবে আদায় না হওয়ায় ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের ব্যাংকিং সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য একটি আলাদা সেল গঠন করেছে। কোন ব্যাংক গ্রাহককে সঠিক সেবা প্রদানে অনীহা বা উদাসিনতা দেখালে তা বাংলাদেশ ব্যাংক এর হটলাইন নাম্বার ১৬২৩৬ এ কল করে জানালে সে ব্যাপারে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
তিনি তামাবিল ও শেওলা স্টেশনে ব্যাংকের শাখা খোলা, সিএসআর কার্যক্রম সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া এবং বড় ছোট যেকোন অংকের চেক কয়েক মিনিটের মধ্যে পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান। এছাড়াও তিনি সিলেট চেম্বারের অন্যান্য প্রস্তাবনাসমূহ যথাযথ সহানুভুতির সাথে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বস্থ করেন।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মোঃ আবুল কাশেম ও সিলেট শাখার জিএম মোহাম্মদ মোবারক হোসেন ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বিষদভাবে আলোচনা করেন ও বিভিন্ন বিষয় ব্যবসায়ীদেরকে অবগত করেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পূবালী ব্যাংক এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হালিম চৌধুরী, সিলেট চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি এম এ মুমিন, ফখর উদ্দিন আলী আহমদ, সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ মামুন কিবরিয়া সুমন, সহ সভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী, পরিচালক ও এফবিসিসিআই এর প্রাক্তন পরিচালক মোঃ হিজকিল গুলজার, পরিচালক এবং ব্যাংক ও ইন্সুরেন্স সাব কমিটির আহবায়ক জিয়াউল হক, মোঃ লায়েছ উদ্দিন, নুরুল ইসলাম, প্রাক্তন পরিচালক এম এ মান্নান, ওমেন্স চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি স্বর্ণলতা রায় ও সদস্য আলিমুল এহছান চৌধুরী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম স্বপন কুমার রায়, ডিজিএম ওয়াহিদা নাসরিন, সোনালী ব্যাংকের জিএম খায়রুল কবির, রূপালী ব্যাংকের জিএম এনামুল হাকিম, পূবালী ব্যাংকের ডিজিএম ও আরএম এ. এস. সিরাজুল হক চৌধুরী, ইসলামী ব্যাংকের জোনাল হেড ওমর ফারুক খান, এবি ব্যাংকের রিজিওনাল হেড জি এম রিজভী, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার আব্দুল্লাহ্ আল ফারুক, ডাঃ আব্দুস সালাম, সরওয়ার আহমদ, সিলেট চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি এম এ ছালাম চৌধুরী, পরিচালক মোঃ সাহিদুর রহমান, পিন্টু চক্রবর্তী, মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান (ভূট্টো), মোঃ এমদাদ হোসেন, আমিরুজ্জামান চৌধুরী, এহতেশামুল হক চৌধুরী, চন্দন সাহা, মোঃ বশিরুল হক, প্রাক্তন সহ সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, প্রাক্তন পরিচালক আলহাজ্ব কলন্দর আলী, এম এ ওয়াদুদ, এ টি এম মোশাহিদ উদ্দিন, শফিক আহমদ বখ্ত, সদস্য ড. আর কে ধর, মোনায়েম খান বাবুল, মোঃ আরিফ মিয়া, হানিফ মোহাম্মদ, হাবিবুর রহমান, খলিলুর রহমান মাছুম, কবির দে, সৈয়দ মুহিবুর রহমান মুরাদ, মোঃ আজিজুর রহমান সুন্দর, মোঃ মঞ্জুর আহমদ, মোঃ মাহবুবুল হাফিজ চৌধুরী মশফিক, সৈয়দ কামাল উদ্দিন, মোঃ কয়ছর আলী, মোহাম্মদ মঞ্জুর আল বাছেত, সমীর লাল দেব প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ ও সিলেট চেম্বারের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।