শিপার আহমেদ, বিয়ানীবাজার | ২৪ জুন, ২০১৭
বিয়ানীবাজারে গৃহপরিচারিকাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে এক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ জুন) গ্রেপ্তার ইউপি সদস্য মুমিনুল ইসলাম রুমন (৩৩) কে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এ ঘটনায় মুমিনুল ইসলামের স্ত্রী ফারহানা ইসলাম ও ভাই কানন ইসলাম পলাতক রয়েছেন। নিহত গৃহপরিচারিকা রেশম বেগম (৪০) এর মরদেহ শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের কালাইউরা গ্রামের ইউপি সদস্য মুমিনুল ইসলাম রুমনের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতো রেশম বেগম। সে একই উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের দীঘলবাক গ্রামের মৃত মন্তাজ আলীর মেয়ে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সে এ বাড়িতে কাজের জন্য আসে। দারিদ্রটার কারণে ভাইয়ের পরিবারে বড় হওয়া রেশম বেগমের বিয়েও হয়নি।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জকিগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাক সরকার জানান,-‘ওই গৃহপরিচারিকা একটু আনমনা প্রকৃতির। এ কারণে সংসারের কাজে সে কিছুটা অমনোযোগী ছিল। কাজকর্ম সঠিকভাবে করতে না পারায় শুরু থেকেই তার উপর নির্যাতন চালানো হত। এ কারণে গত বৃহস্পতিবার রাতেও তার উপর নির্যাতন করা হয়। আর এতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। এ ঘটনায় গ্রেফতার রুমনকে রিমান্ডে নিয়ে আসলে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে।’
নিহতের আত্মীয় আব্দুস সামাদ বেলাল জানান- ‘বৃহস্পতিবার রাতে তাকে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ সময় সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।’ তার অভিযোগ-‘মৃত্যুর প্রায় ৮ঘন্টা পর তাদের ঢেকে এনে মরদেহ চুপিসারে দাফনের অনেক চেষ্টা করেন ইউপি সদস্য মুমিনুল ইসলাম রুমন, তার ভাই কানন ইসলাম ও স্ত্রী ফারহানা ইসলাম।’
নিহতের ভাবী বলেন, ইউপি সদস্যের ভাই কাননও রেশমের সাথে অশ্লীল আচরণ করত। পরিবারের সবার নির্যাতনে তার ননদ মারা গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিয়ানীবাজার থানার এসআই নিঝুষ জানান, নিহত মহিলার মরদেহ ফুলে গেছে। তার শরীরের একাধিক স্থানে রয়েছে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের পিছন দিকের একটি আঘাতে পচন ধরার মতো অবস্থা হয়েছে।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, গৃহপরিচারিকা নিহতের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহার নামীয় দুই আসামীর একজন ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামী ফারহানা ইসলাম পলাতক রয়েছেন।