Sylhet Today 24 PRINT

গোলাপগঞ্জে পা ভেঙ্গে দেওয়ার প্রতিশোধ নিতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সৌদী প্রবাসীকে

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি |  ২৪ জুন, ২০১৭

সিলেটের গোলাপগঞ্জের শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কদুপুর গ্রামে দুইবছর পূর্বে সংঘর্ষে পা ভাঙ্গার বদলা নিতে শুক্রবার ইমাম হোসেন নামে এক সৌদী প্রবাসীকে নির্মম পৈশাচিক কায়দায় কুপিয়ে খুন করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে,  প্রায় দুবছর ধরে কদুপুর গ্রামের মৃত আতাব আলীর ছেলে নিহত ইমাম উদ্দিন ও তার প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেনের গোষ্টির মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুইবছর পূর্বে দুইপক্ষে সংঘর্ষ হলে ইমাম উদ্দিনের পক্ষের লোকজন আনোয়ার হোসেনের উপর হামলা চালিয়ে তার একটি পা ভেঙ্গে দেন। এর পর থেকে আনোয়ার হোসেনের আত্মীয় স্বজনরা এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। তারা দীর্ঘ দিন ধরে সুযোগ খোঁজছিল।

গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পূর্বে ইমাম উদ্দিন কে একা পেয়ে আনোয়ার হোসেনের লোকজন বিভিন্ন ধরনে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামল চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই ইমাম উদ্দিন নিহত হন।

গোলাপগঞ্জ থানার ওসি একেএম ফজলুল হক বলেন, এটা অত্যন্ত নির্মম ঘটনা, দুই বছর আগের ঘটনায় এভাবে একজনকে কুপিয়ে কেউ খুন করতে পারে তা মেনে নেয়া যায় না। আমরা সবোর্চ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করছি। এদিকে হামলকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হয়েও অনেকে প্রাণভয়ে মুখ খুলছেন না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এমএ মুহিত হীরা জানান ‘পূর্ববিরোধের জেরেই ইমামকে খুন করা হয়।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত স্থানীয় এলাকবাসীর মোবাইলে ধারনকৃত ছবি ও গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, ধারালো দা অথবা কুঠারের আঘাতে ইমামের মাথা দ্বি-খন্ডিত করা হয়, একটি পা হাটুর নিচ থেকে আলাদা হয়ে গেছে, দু হাতে ১০/১২টি মারাত্বক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কোমরে ধারালো অস্ত্র দ্বারা কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। মনে হচ্ছে দীর্ঘ দিনের জমে থাকা ক্রোধ মেঠাতে এভাবে পৈশাচিক কায়দায় খুন করা হয়েছে।

নিহত ইমাম উদ্দিনের বড় ভাই নজির আহমদ বলেন ‘কোন মানুষ অন্য মানুষকে এভাবে কেটে টুকরো টুকরো করতে পারে তা অবিশ্বাস্য।’ ইমাম হত্যার ঘটনায় নজির আহমদ বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় ২৩ জন কে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের কছেন। পুলিশ ঘটনার পর পরই হত্যা কান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একই এলাকার আব্দুল ওয়াহিদের পুত্র রাজু আহমদ, আছকর আলীর পুত্র শাহ আলম, আব্দুল খালিকের পুত্র মারজান আহমদকে আটক করে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল (শনিবার) আসরের নামাজের পর কদুপুর গ্রামে ইমাম উদ্দিনের জানাজার নামাজ অনুষ্টিত হলে পরে পারিবারিক গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

এদিকে এরকম খুনের ঘটনা এই ইউনিয়নে নতুন নয় মাত্র দু বছর পূর্বে কদুপুরের পার্শবর্তী গ্রাম বসন্তপুরে পবিত্র রমজান মাসে প্রতিপক্ষের হামলায় এভাবে দু ব্যক্তি খুন হয়েছিলেন। এছাড়া কয়েক বছর পূর্বে ধানক্ষেতে বায়ু ত্যাগ করা নিয়ে দুই কৃষকের কথা কাটাকাটির জেরে সৃষ্ট সংঘর্ষে ৪জন খুন হওয়ার ঘটনা ঘটে। একই ইউনিয়নের মেহের পুর গ্রামে প্রায় ১বছর পূর্বে প্রতিপক্ষের হামলায় দুজন নিহত হন। শুক্রবার নিহত যুবক ইমাম উদ্দিনের শরীরের আঘাত শিহরিত করেছে লোকজনকে।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম ফজলুল হক শিবলী জানান, পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.