বড়লেখা প্রতিনিধি | ২৪ জুন, ২০১৭
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চান্দগ্রাম উত্তর এলাকায় সোনাই নদীর বাঁধ ভেঙে ৭টি খামার তলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। এ অবস্থায় খামারের মালিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এছাড়া তলিয়ে গেছে দুইটি গ্রামের ফসল ও আউশের বীজতলা। গত বৃহস্পতিবার (২২ জুন) ভোররাতে বাঁধে ভাঙনের এ ঘটনা ঘটে।
জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চান্দগ্রাম উত্তর এলাকায় সোনাই নদীর দক্ষিণ দিকে বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। প্রায় ১০ ফুট জায়গায় ভেঙে ইউনিয়নের চান্দগ্রাম উত্তর ও ওয়াহিদপুর গ্রামে পানি প্রবেশ করে। এতে এ দুইটি গ্রামের ফসল ও আউশের বীজতলা তলিয়ে যায়। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে হেলাল আহমদ, সাজু আহমদ, নাজিম উদ্দিন, আফজল হোসেন, হারুনুর রশীদ, শাহীন আহমদ ও সায়মন আহমদের খামার তলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। মাছ চাষিরা জাল ও বেড়া দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলেও পানি বাড়তে থাকায় মাছ আটকানো সম্ভব হয়নি। গত দুইদিন থেকে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকায় অন্য মাছের খামারগুলো তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মাছ চাষিরা।
শনিবার (২৪ জুন) স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধটি পুনরায় মেরামতের প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে।
খামার মালিক হেলাল আহমদ ও সাজু আহমদ জানান, ‘চোখের সামনে বাঁধ ভেঙে আমাদের দুই খামারের ১০ লাখ টাকার মাছ তলিয়ে গেছে। শুধু তাকিয়ে দেখেছি। কিছুই করার ছিল না। বাঁধ ভাঙার বিষয়টি আমাদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খয়রুল আলম নুনু ও মেম্বার কবির আহমদকে জানিয়েছি। তারা এসে দেখে গেছেন। ’
স্থানীয় ইউপি সদস্য কবির আহমদ বলেন, ‘হঠাৎ নদীর দক্ষিণ দিকে ১০ ফুটের মত বাঁধ ভেঙে গ্রামে পানি ঢুকতে থাকে। এখনও পানি ঢুকছে। পানি যেভাবে বাড়তেছে অন্য মাছের খামারগুলোও পানিতে তলিয়ে মাছ ভেসে যাবে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে জানিয়ে আবেদন করা হয়েছে। এলাকার মাছের খামার ছাড়াও আউশের বীজতলা, জমির ফসল তলিয়ে গেছে। বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকায় মানুষের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।’
নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল হক বাঁধ ভেঙে দুই গ্রামের মাছের খামার, ফসল তলিয়ে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ভাঙনটি দেখেছি। বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে জানিয়েছি। দ্রুত বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধটি পুনরায় মেরামত করা হবে।’