Sylhet Today 24 PRINT

শেষ মুহুর্তে প্রসাধনীর দোকানে ভিড় তরুণ-তরুণীর

দেবকল্যাণ ধর বাপন |  ২৫ জুন, ২০১৭

ঈদের কেনাকাটায় শেষ সময়ে ব্যস্ততা এখন নগরীর কসমেটিকসের দোকানে। শেষ সময়ে প্রয়োজনীয় সাজসজ্জার অনুষঙ্গ কসমেটিকস কিনতেই এখন ব্যস্ত তরুন-তরুণীরা। ঈদের জন্য কেনা পোশাকটি যত আকর্ষণীয়ই হোক না কেন সেই পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সাজসজ্জার পণ্যসামগ্রী না হলে ঈদের সাজগোজটাই যেন পরিপূর্ণতা পায় না। তাই ঈদের নতুন পোশাকের সঙ্গে নিজেকে সাজাতে আধুনিক তরুণীরা এখন ভিড় জমাচ্ছেন প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানে।

ঈদে নেওয়া পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে লিপস্টিক, লিপ লাইনার, নেইলপলিশ, লিপ গ্লস, আইলাইনার, আই শ্যাডো, ব্লাশারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী কিনছে ক্রেতারা। এর সাথে সবসময়ের প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন— ফেস পাউডার, ফাউন্ডেশন, প্যানকেক, বডি স্প্রে, পারফিউম, প্যানস্টিক, শ্যাম্পু, সাবান এসবও কিনতে ভুলছেন না ক্রেতারা। তাছাড়া ঈদের আমেজ তৈরিতে ক্রেতাদের সবাই নিচ্ছেন মেহেদী।

কসমেটিকসের ক্ষেত্রে বরাবরের মতো এবারও বিদেশি ব্র্যান্ডের প্রসাধনীর চাহিদাই বেশি। যার যেমন পছন্দ ও সামর্থ্য সে অনুযায়ী ক্রেতারা কিনছেন এসব পণ্য। এর মধ্যে বেশি চলছে গোল্ডেন রোজ এর পণ্য। তাছাড়া  ম্যাক, লোরিএল, আরটিস্ট্রি, সেফোরা, ডাব, ডাইওর, আরবান ডিকেই নিওর, জ্যাকলিন, , রেভলন, মেবলন জর্ডানা, ফ্লোমার, ট্রেসেমিসহ অন্যান্য ব্যান্ডের কসমেটিকসগুলো চলছে তালমিলিয়ে।

বিদেশি প্রসাধনীর সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতায় রয়েছে দেশীয় প্রসাধনী। এসব পণ্যের চাহিদাও তুলনামূলক কম। তবে মডার্ন, চন্দন, জেসমিনসহ কিছু দেশীয় প্রসাধনী বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে।

বিদেশি সকল ব্র্যান্ডের প্রসাধনীর দাম ২০০ থেকে দুই হাজার টাকা বা তারও বেশি। ব্র্যান্ডের লিপস্টিক বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ৭০০ টাকায়। ব্লাশার ৩০০ থেকে দুই হাজার, কাজল ৭০ থেকে ২০০, আই শ্যাডো ১৮০ থেকে ৬০০, লিপ লাইনার ১২০ থেকে ৪০০, লিপ গ্লস ১৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের একটি মেকআপ বক্সের দাম পড়ছে দুই হাজার টাকার ওপরে।

ঈদের দিন মেকআপ করার পাশাপাশি নিজেদের হাত মেহেদীর রঙে সাজাতেও ভুলছেন না শিশু-কিশোরী ও তরুণীরা। হাত রাঙাতে মেহেদীর মধ্যে  লিজান, রাঙাপরি, শাহাজাদী, মমতাজ এসব মেহেদীও ভালই বিক্রি হচ্ছে। এগুলো প্রতিটির দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

তরুণীদের পাশাপাশি ফ্যাশনপ্রিয় তরুণরাও ঈদ উপলক্ষে কিনছেন বিভিন্ন ধরনের পারফিউম,চুলের জেল, সেভিং কিট, স্ক্রাব, বডি স্প্রে, শাওয়ার জেল, ফেসপেক, ব্ল্যাক মাস্ক, হোয়াইটিনিং ক্রিম ইত্যাদি।সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে তরুণীদের পাশাপাশি তরুণরাও ফ্যাশান সচেতন হয়েছে।

চৌহাট্টাস্থ মানরু শপিং সিটির গুর্জরি কসমেটিকের ম্যানেজার সুবল সিংহের কাছে কোন ধরনের প্রসাধন বেশি বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইলাইনার, মাসকারা, আইল্যাশ, নেইলপলিশ, ফেসপাউডার, আইস্যাডো এসব বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে এরসাথে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীও সমান তালেবিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এরমধ্যে শ্যাম্পু, সানস ক্রীম, লোশন, ক্রিম, বডি ওয়াশ, ছেলেদের রেজার, আপটার সেভলোশন, ফোম। তবে সানসিল্ক, ডাভ, ক্লিয়ার, লরিয়াল, প্রেন্টিলরেল, হারবাল, এসেন্স, প্যানটিন ইত্যাদি শ্যাম্পু বেশি চলছে।

একই মার্কেটের নাঈম কসমেটিকসের বিক্রয়কর্মী আলম বলেন, কালারফুল কসমেটিকসের প্রতিই এখন তরুণীদের আগ্রহ বেশি।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লিকুইড ম্যাট লিপস্টিকগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কাজলের চাহিদাও আছে, তবে কালারফুল যেমন ব্লু, গ্রিন কাজল আর আই-লাইনারগুলোও কিনছেন কাস্টমাররা। আর মেহেদীর তো বলার অপেক্ষা রাখে না। আলমাস, কাভেরীর টিউব মেহেদীর পাশাপাশি লিজান, মমতাজ, শাহাজাদী মেহেদী চলছে।

প্রসাধনীর পর সাজসজ্জার আরেকটি অনুষঙ্গ হলো অলংকার। উৎসবের সময়গুলোতে বাইরে ঘোরাঘুরি করতে স্বর্ণের পরিবর্তে ইমিটেশনের গয়নাকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন এখনকার তরুণীরা। তাছাড়া এগুলো যেকোনো পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কিনতে পাওয়া যায়। তাই পছন্দের পোশাকটির সঙ্গে মানানসই করে সিটি গোল্ড বা রূপার উপর স্বর্ণের প্লেট বসানো অলংকারই বেশি কিনছেন ক্রেতারা।

চৌহাট্টাস্থ মানরু শপিং সেন্টারে শপিং করতে আসা নাদিয়া নিশাতের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ঈদের কেনাকাটা শেষ হয়েও যেন শেষ হতে চায় না। আর প্রসাধনীতো নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য। তাই নিত্য প্রয়োজনীয় প্রসাধনীর পাশাপাশি ঈদে কেনা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কিছু কসমেটিকস, ব্যাগ, জুতো কিনতেই বাজারে আসা। তিনি আরো বলেন, চাঁদরাত পর্যন্ত আমার কেনাকাটা চলবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.