Sylhet Today 24 PRINT

বন্যায় ভাসছে বিয়ানীবাজার,সড়ক যোগাযোগ বন্ধের আশংকা

শিপার আহমেদ, বিয়ানীবাজার |  ২৯ জুন, ২০১৭

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং গত এক সপ্তাহের প্রবল বর্ষণে বিয়ানীবাজার উপজেলার ৭ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর রক্ষা বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ দোকানপাট ও বাড়ি-ঘর।

সিলেট-বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়ক ও বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর অভ্যন্তরীণ সড়কের বেশ কিছু অংশের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়কে যান আটকা পড়ায় যাত্রীরা পায়ে হেঁটে কিংবা ট্রাক্টরে করে কবলিত এলাকা পার হতে দেখা গেছে।

কুশিয়ারা নদীর পানি বিয়ানীবাজার শেওলা পয়েন্টে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ নদীর দুবাগ ইউনিয়নের মেওয়া পশ্চিম ও খাড়াভরা এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের জন্য দুর্গত এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ফ্লাড সেন্টার আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু: আসাদুজ্জামান ও পৌরসভার মেয়র আব্দুস শুকুর।

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে দুবাগ, শেওলা, কুড়ারবাজার, মাথিউরা, তিলপাড়া, মুড়িয়া ও লাউতা ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকার বাড়ি ঘরে পানি উঠেছে। তলিয়ে গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জামে মসজিদ। দুবাগের মেওয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ এবং লাউতার গজারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

কুশিয়ারা নদীর রক্ষা বাঁধ ভেঙে সিলেট-বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম মেওয়ার মায়ন চত্বর এলাকায় সড়ক উপর দিয়ে প্রায় দুই ফুট পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ সড়ক দিয়ে কার, মাইক্রো ও অটোরিকশা দুপুরে দিকে চলাচল করলেও বুধবার বিকালে বন্ধ হয়ে যায়। ঝুঁকি নিয়ে চলছে যাত্রীবাহী ও মাল বোঝাই যানবাহন। দুবাগ ইউনিয়নের খাড়াভরা গ্রামের প্রবল স্রোতের ঝুঁকির মুখে থাকা শফিক ও রফিক উদ্দিনের পরিবারকে মঙ্গলবার রাতে নিরাপদ স্থানে সরানো কথা জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী।

বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর অভ্যন্তরীণ সড়কের প্রায় দশটি অংশ তলিয়ে যাওয়ায় সিলেটের সাথে বিকল্প সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সড়ক দিয়ে চলাচল করার সময় বেশ কিছু গাড়ি বিকল হয়ে সড়কে আটকা পড়ে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান বলেন, কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিয়ানীবাজার উপজেলা সিলেটের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এ পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ দুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে। তিনি দেশ বিদেশের সকলকে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু: আসাদুজ্জামান বলেন, আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে একাধিক কমিটি গঠিত হয়েছে। কবলিত এলাকার পরিস্থিতি জানিয়ে ত্রাণ সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.