নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ মে, ২০১৫
অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে 'ব্লগার' অভিহিত করে তাকে সিলেটে অবাঞ্ছিত ঘোষণার হুমকি দিয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতারা। শনিবার সিলেটে জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ মিছিল থেকে এ হুমকি দেওয়া হয়।
জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় ও সিলেট-৩ আসনের সরকারদলীয় সাংসদ মাহমুদ-উস-সামাদ কয়েস চৌধুরীকে নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ এনে 'সিলেটবাসী' ব্যনারে এ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিকেল ৪ টায় শুরু হওয়া এ মিছিলে সহস্ত্রাধিক লোক অংশ নেন। যদিও মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই জানিয়েছেন, জাফর ইকবাল জয় ও কয়েসকে নিয়ে কী 'কটুক্তি' করেছেন তা তারা জানেন না।
এর আগে সিলেটে বিভিন্ন মৌলবাদীগোষ্টি জাফর ইকবালকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে তার শাস্তির দাবিতে মিছিল করে।
ব্লগার অনন্ত বিজয় হত্যার প্রতিবাদে বুধবার শাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছিলেন, ব্লগার হত্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পুত্র যা বলেছেন আমি তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। যদিও কয়েস চৌধুরী নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি জাফর ইকবাল। উল্টো সাংসদ কয়েস চৌধুরী নিজ নির্বাচনী এলাকা ফেঞ্চুগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে জাফর ইকবালকে সিলেটবিদ্বেষী আখ্যা দিয়ে তাকে 'কোর্ট পয়েন্টে এনে চাবুক মারার' ইচ্ছা পোষণ করেন।
কয়েস চৌধুরীর এই কটুক্তির পর শাবিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করছেন জাফর ইকবালের ভক্ত-শুভানুধ্যায়ী-শিক্ষার্থীরা।
শনিবার সিলেট নগরীর কমদতলী বাস টার্মিনাল থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সুরমা পয়েন্টে এসে জড়ো হয়। এরপর সেখান থেকে বিকাল ৪টায় জাফর ইকবাল বিরোধী মিছিলটি চৌহাট্টাস্থ শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল থেকে ‘সিলেট বিদ্বেষী জাফর ইকবাল, এই মুহুর্তে সিলেট ছাড়’ ‘ব্লাগার জাফর ইকবালের আস্তানা, ভেঙ্গে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ প্রভৃতি স্লোগান দেয়া হয়।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন মিছিলে নেতৃত্ব দেন। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এমরুল হাসানসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা এতে অংশ নেন।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে ‘ড. জাফর ইকবাল প্রগতির নাম নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন’ বলে অভিযোগ করেন অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন ও আসাদ উদ্দিন আহমদ। সমাবেশ থেকে জাফর ইকবালকে সিলেটে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করারও হুমকি দেওয়া হয়।