Sylhet Today 24 PRINT

হাওরে অনিয়ম: পাউবো কর্মকর্তা-ঠিকাদারসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০২ জুলাই, ২০১৭

সুনামগঞ্জের হাওড়ে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবহেলার অভিযোগে ৬১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আসামীদের মধ্যে ১৫ জন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর কর্মকর্তা। বাকীরা ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)-এর সদস্য।

এদিকে, মামলা দায়েরের পরপরই প্রধান আসামী পাউবোর সুনামগঞ্জের বরখাস্তকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে দুুদক।
রোববার দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন জানান ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল্লাহ।

থানা সূত্রে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের বরখাস্তকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিনকে এই মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে। এ ছাড়া বরখাস্তকৃত সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাই, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলামসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামী করা হয়েছে। বাকি ৪৬জন আসামির মধ্যে ঠিকাদার ও পিআইসির সদস্যরা রয়েছেন।

সুনামগঞ্জে হাওর বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় গত ১৫ এপ্রিল নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিনকে সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে নেয় পাউবো। এরপর গত ৩ মে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (উত্তর-পূর্বাঞ্চল) মো. আব্দুল হাই এবং সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফসার উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আফসার উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্থানীয় ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ২৮টি বাঁধ নির্মাণে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সিলেটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও বাঁধ নির্মানে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
দেশের বোরো ধানের বেশিরভাগেরই চাষ হয় সুনামগঞ্জসহ আরো কয়েকটি জেলার হাওড়ে। এপ্রিলের দিকে এই ধান কাটা শুরু হয়। তবে প্রতিবছর মার্চ থেকে শুরু হওয়া পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে হাওড় এলাকায় অকাল বন্যা দেখা দেয়। অকাল বন্যায় যাতে ফসল তলিয়ে নিতে পারে এজন্য হওড়ের চারপাশে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মান করে পাউবো। এবছর সুনামগঞ্জে বাঁধ নির্মানের জন্য পাউবোকে ৫৮ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছিলো সরকার। তবে শুরুতেই বাঁধ নির্মানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

 ফেব্রুয়ারির মধ্যে সবগুলো বাঁধ নির্মান শেষ হওয়ায়র কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ এই সময়ের মধ্যে বেশিরভাগ বাঁধ নির্মান শুরুই হয়নি। ফলে মার্চের শেষদিকে অকাল বন্যায় তলিয়ে যায় হাওড়ের ফসল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী হাওরাঞ্চলের ছয় জেলায় মোট দুই লাখ ১৯ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ক্ষতির শিকার হয় আট লাখ ৫০ হাজার ৮৮টি পরিবার। এরমধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জের ৯০ শতাংশ ফসলই তলিয়ে যায় পানিতে।

ফসলহানির পর বাঁধ নির্মানে দুর্নীতির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। তীব্র সমালোচনার মুখে গত ১৩ এপ্রিল দুর্নীতি তদন্তে নামে দুদক।

দুদক পরিচালক বেলাল হোসেনকে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে সদস্য রাখা হয় উপ-পরিচালক মো. আবদুর রহিম ও সহকারী পরিচালক সেলিনা আক্তার মনিকে। তদন্ত কমিটির কাজ তদারকি করেন দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান।

 এই কমিটি গত ১৯ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৫ দিন সুনামগঞ্জ হাওর বাঁধ নির্মাণ এলাকা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় দফতরে অনুসন্ধান চালায়। এ সময় তারা সন্দেহভাজন ২৫ জন পাউবো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

 এ ছাড়া নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার, এলাকার সাধারণ মানুষ, ভুক্তভোগী কৃষক, প্রকল্প কমিটির সদস্যসহ আরও শতাধিক লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই সঙ্গে সংগ্রহ করা হয় ঠিকাদারি কাজের নথি।

অনুসন্ধানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল হাই, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম সরকার ও সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পায় দুদক। রোববার পাউবোর ১৫ জনসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

এদের মধ্যে সুনামগঞ্জে বরখাস্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফসার উদ্দিনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপ পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণবকুমার ভট্টাচার্য।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.