Sylhet Today 24 PRINT

সমুদ্র পথে বিদেশযাত্রা: নিখোঁজদের জন্য সুনামগঞ্জে ঘরে ঘরে আহাজারি

“আমি এতিম এর মা আমার পুতেরে সরকারের কাছে ভিক্ষা চাই”

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি |  ১৭ মে, ২০১৫

“আমি এতিম এর মা বাপ মরছে কত কষ্ট কইরা  পালছি পরে আমার পুতে আমারে পালছে আমার পুতে আমারে আনা কইয়া গেছেগি থাইলেন গিয়া ফোন দিছে কইছে সাগরওগো আম্মা তোমরা আমারারে তোলবার ব্যবস্থা করগো আম্মা আমরারের বাচাও এর বাদে আর এক দিনও একটা ফোনও পাইনা হায় হায় করতে করতে দালালরে ফোনদেই দরে না দুই মাস অইচে আর পুতের মাত হুনচিনা সরকারে যদি অকন আমার পুতেরে বাচাইয়া দেয় সরকারের কাচে ভিক্ষা  চাই”। - এভাবেই আহাজারি করছিলেন সুনামগঞ্জের নিখোঁজ সেলিমের মা আঞ্জুমান বেগম।

শুধু সেলিমেই নয় ভাগ্য বদলের আশায় মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড যাওয়ার জন্য সুনামগঞ্জের ৯ যুবক নিখোঁজ রয়েছেন।নিখোঁজ যুবকদের ঘরে ঘরে এখন শুধুই কান্না আর আহাজারি। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠছে। বিদেশ পাড়ি দিতে গিয়ে ৩মাস ধরে খোঁজ নেই এসব যুবকদের। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে দালালদের সনাক্ত করে তাদের ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।  
সংসারের অভাব অনটন দূর করতে দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলার ৫জন আর সদর উপজেলার ৪জন সাগর পথে যাত্রা করেছিলেন তারা এখন নিখোঁজ রয়েছেন।

জয় কলস ইউনিয়নের কামরুপদলং গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের পুত্র জুনেদ আহমেদ, সাজু মিয়ার পুত্র জমির হোসেন, মসদ আলীর পুত্র সেলিম আহমদ ও তাজুল ইসলামের পুত্র আব্দুল গফফার দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে সাগর পথে মালয়েশিয়া রওনা হন। এখন এই পাঁচ যুবকের কোন সন্ধান নেই।

এদের পরিবারের সদস্যরা জানান চলতি বছরে ১৬ মার্চ পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম যান। পরে ট্রলারে সাগর পথে মালয়েশিয়া রওনা দেন। গভীর সমুদ্র থেকে কেউ কেউ পরিবারের সাথে ফোনে শেষ বার কথা বলে সবার দোয়া চেয়েছেন আর  ঘরে পৌছে ফোন দিলে দালালদের টাকা দিতে বলেন। নিখোঁজ জুনেদের ছুটভাই জুবায়ের জানান তার ভাই সহ ৫জন সাগর পথে মালয়েশিয়া রওনা দেয় এর ১মাস ২৬ দিন পর দালাল তাদের জানায় তার ভাই ইন্দেনেশিয়ায় পুলিশের হাতে আটক হয়েছে।

এর পরে আর কোন খোঁজ খবর পায়নি। এদিকে একটি জাতিয় দৈনিক পত্রিকায় নিখোঁজ আব্দুল গাফ্ফারের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। তার পরথেকেই পরিবারে শুধু কান্না আর আহাজারি। একই অবস্থা সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের হাবিব, জমসিদ, ইয়াহিয়া, হারিছ আলীর পরিবারেও।

যাত্রার প্রায় দুই মাস পর এক দালাল ফোনে জানান এরা ইন্দোনেশিয়ান পুলিশের হাতে আটক আছে। এরপর থেকেই তাদের আর কোন খোঁজ খবর পায়নি স্বজনরা। নিখোঁজ পরিবারের লোকজনের দাবি দালাল চক্রের সদস্যদের কঠোর শাস্তি দিলে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়া কমবে। সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, বিভিন্ন পত্র পত্রিকার তথ্যের মাধ্যমে দালালদের সনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের ধরার চেষ্টা চলছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.