নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮ জুলাই, ২০১৭
কিছু লোক শ্রমিকদেরকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।
শনিবার (৮ জুলাই) সকালে দক্ষিণ সুরমার কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনালে সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে এ অভিযোগ আনা হয়। পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের উপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সিলেট পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নগুলো ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এ শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম আহমদ ফলিকের সভাপতিত্বে ও রাকিব উদ্দিন রফিকের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব আবুল কালাম, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দিলু মিয়া, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যকরী সভাপতি তারা মিয়া, সিলেট জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন (৭০৭) সভাপতি জাকারিয়া আহমদ, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি আব্দুস সালাম, অটোরিকশা/অটোটেম্পু চালক শ্রমিক জোটের সভাপতি মতসির আলী, সিলেট জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আজাদ মিয়া, সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ সামসুল হক মানিক, জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের নেতা পলক চৌধুরী, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ আব্দুল গফুর, সিলেট জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন (৭০৭) এর কার্যকরী সভাপতি সুন্দর আলী খান, বাস মালিক সমিতির সহসভাপতি আব্দুর রহিম, হিরন মিয়া, অটোটেম্পু লেগুনা মালিক সমিতির সভাপতি মামুন রশিদ প্রমুখ।
এক শ্রমিক লীগ নেতার নামোল্লেখ করে বক্তারা বলেন, টার্মিনালে গাড়ি ভাংচুর ও হামলার কারণে দায়েরকৃত মামলার আসামীদের আজো গ্রেপ্তার করা হয়নি। তারা প্রকাশ্যে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। সমাবেশে বক্তারা শ্রমিকদের ৪ দফা দাবী আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে ২৩ জুলাই রোববার থেকে শুধু সিলেট জেলা নয় দেশব্যাপী পরিবহন ধর্মঘটের হুশিয়ারি দেন।
বক্তারা বলেন, বিগত দিনে জামায়াত-শিবির আন্দোলনে আমাদের প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক আহত ও ৪ শতাধিকের উপর নিহত হয়। শুধু তাই নয় এ আন্দোলনে হাজার খানিক গাড়িও পোড়ানো হয়। সরকারের সকল দুর্যোগের পাশে আমরা আছি। কিন্তু এখন শ্রমিকলীগ নামধারী কিছু নেতাকর্মীরা সরকারকে পরিবহন সেক্টরের সাথে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
তাদের ৪ দফা দাবীগুলো হলো, শ্রমিকলীগের নাম ব্যবহার করে এবং অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের নাম ও রেজি: নাম্বার ব্যবহার করে নিজেরা রশিদ ছাপিয়ে কোর্ট পয়েন্টে, জেল রোড ও জেল গেটে শ্রমিকদের নিকট থেকে চাঁদাবাজি ও স্ট্যান্ড দখলের জন্য দায়েরকৃত মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার কবা, হাইওয়ে পুলিশের হয়রানী বন্ধ করা, কারণে-অকারণে ছোট গাড়িগুলোকে মামলা, রেকারিং বন্ধ, সিলেটের সকল রাস্তাঘাট সংস্কার করা।