তাহিরপুর প্রতিনিধি | ০৯ জুলাই, ২০১৭
জয়নাল আবেদীন জুয়েল, যার বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে এক কলেজ ছাত্রী অনশন করেন
সুনামগঞ্জ আদালতের আইনজীবী সহকারীর বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে অনশন করছেন এক কলেজ ছাত্রী।
শনিবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টা থেকে অবস্থান নিয়ে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের জয়নাল আবেদীন জুয়েলের চারাগাঁও মাইজহাঁটির বাড়িতে অনশন করছেন সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে স্নাতক পড়ুয়া এক ছাত্রী।’
রাতভর থানা পুলিশকে দিয়ে ওই ছাত্রী ও তার অভিভাবককে জেল হাজতে ঢুকানোর হুমকি সহ নানা রকম মানসিক চাপ প্রয়োগ করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, উপজেলার কলাগাঁও বাজারের পল্লী চিকিৎসক চারাগাঁও মাইজহাঁটি গ্রামের বরজু ওরফে বশির ডাক্তারের ছেলে জয়নাল আবেদীন জুয়েলের সাথে সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজপড়ুয়া এক ছাত্রীর প্রেম হওয়ার পর’২০১৫ সালে উভয়ের সম্মতিতে বিয়েও হয়। বিয়ের পর জেলা শহরে ভাড়াটিয়া বাসায় প্রায়ই স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে তারা বাস করছিল।
অপরদিকে জুয়েল ১০ জুলাই সোমবার পার্শ্ববর্তী বিশ্বম্ভরপুরের শাহপুরে ফের দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাচ্ছে জানতে পেরে স্ত্রী স্বীকৃতি পেতে শনিবার রাতেই ওই ছাত্রী জুয়েলের বাড়িতে এসে উপস্থিত হয়ে অনশন বসেন। এ ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হতে শুরু করলে উৎসুক এলাকাবাসী রাতে এমনকি রোববার সকালেও থেকে ভিড় জমান ওই পল্লী চিকিৎসকের বাড়িতে।’
সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী শনিবার মধ্যরাতে গণমাধ্যকর্মীদের সহায়তা চেয়ে মোবাইল ফোনে জানান, আমি রাতে জুয়েলের বাড়িতে আসার পর জুয়েল তার বড় ভাই জাভের আহমদ জাভেদকে ছাত্রলীগের বড় নেতা পরিচয় তুলে ধরে আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দিবে বলে হুমকি ও গালমন্দ করে কয়েকবার মারতেও আসে। পরে সে থানায় গিয়ে তার ভাই জাভেদের প্রভাব খাঁটিয়ে রাতে দফায় দফায় আমি ও আমার অভিভাবকদের থানা পুলিশকে দিয়ে চাপ দিচ্ছে তাদের বাড়ি থেকে চলে যাবার জন্য। আর তা না করলে আমাকে নাকি রোববার সকাল হলেই গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হবে।’
ওই ছাত্রী আরও জানান, জুয়েল প্রথমে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ২০১৪ সালে আমার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার পর এলাকার কয়েকজনকে সাক্ষী রেখে সুনামগঞ্জে ২০১৫ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২ লাখ টাকা মোহরানায় বিয়ে করে। এখন সে এই বিয়ে এবং প্রেমকে সে অস্বীকার করছে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে আইনজীবীর সহকারী দাবিদার জয়নাল আবেদীন জুয়েলের মোবাইল মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দেখেন তো ভাই আমি কী মুশকিলে পড়লাম। আর মাত্র একদিন পর সোমবার বিশ্বম্ভরপুরের শাহপুরে আমার বিয়ের দিনক্ষণ ঠিকঠাক করা হয়ে গেছে। এখন দেখি রাতে হঠাৎ করে এক মেয়ে আমাদের বাড়িতে এসে আমার নিকট স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবি করছে।’
ওই ছাত্রীর সাথে প্রেম ও বিয়ের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জুয়েল তা অস্বীকার করে বলেন, আমি তাকে চিনিই না। এরপর দূরে মোটর সাইকেলে লং ড্রাইভে আছি পরে কথা হবে বলেই জুয়েল তার মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।’
উপজেলার কলাগাঁও মাইজহাটির বুরুজ ওরফে বশির ডাক্তারের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সোমবার আমার ছেলে জুয়েলের অন্যত্র বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করে ফেলেছি। কেনাকাটাও প্রায় শেষ। লোকজনকে দাওয়াত করেছি বরযাত্রী ও বৌভাতের অনুষ্ঠানে থাকার জন্য। এখন হঠাত করে রাতে এক মেয়ে আমার বাড়িতে এসে জুয়েলের নিকট স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবি করছে, এটি ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই না।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তাহিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার বললেন, জুয়েল নামের এক যুবক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন যে তার বাড়িতে জোর করে শনিবার রাতে এক যুবতী উঠেছে।’
জুয়েলের বাড়ি ত্যাগ করতে ওই মেয়ে ও তার অভিভাবকদের থানা পুলিশের পক্ষ থেকে চাপ দেয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, বিয়ের ডকুমেন্ট কিংবা কাগজ-পত্র থাকলে তা থানায় নিয়ে আসার জন্য বলেছি কোন ধরণের চাপ দেই নি।