Sylhet Today 24 PRINT

বিছনাকান্দিতে পর্যটকের স্রোত বাড়লেও ভোগাচ্ছে যাতায়াত ব্যবস্থা

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি |  ০৯ জুলাই, ২০১৭

সিলেটের গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দি পর্যটন স্পটে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পর্যটক দর্শনার্থীর উপস্থিতি। পর্যটকের স্রোত বাড়লেও যাতায়াত ব্যবস্থার করুন চিত্র আগন্তুকদের দুর্ভোগ ও ভোগান্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিলেটের অন্যতম এই পর্যটন স্পটে দেশের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি প্রতিদিন বিদেশী পর্যটক দর্শনার্থীরাও ভিড় করেন। এমন কোন দিন নেই রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন দূতাবাসের নিযুক্ত প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, বিচারক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের দায়িত্বশীলদের আগমন ঘটছে না। পাহাড়, নদী, দিগন্ত জোড়া বিস্তৃত সবুজ অরণ্য বৃক্ষরাজি মনোলোভা বিছনাকান্দি ভ্রমণ প্রেয়সীদের অন্যতম প্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

গণমাধ্যমের কল্যাণে প্রতিনিয়ত ব্যপ্তি ঘটছে হালের সেনশেসন বিছনাকান্দি পর্যটন কেন্দ্রের। শিশু, কিশোর যুবক-যুবতীসহ সর্বস্তরের ভ্রমণ প্রেয়সী মানুষের আনাগোনায় এখন সরব রয়েছে এই পর্যটন স্পট। সড়ক পথ, নৌ পথ ব্যবহার করে প্রকৃতির কাছাকাছি ছুটে আসা আগন্তুকরা তাদের মনের ভ্রমণ ক্ষুধা মেটান। বিছনাকান্দি জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি ভারতের অগণিত পাহাড়, টিলা, বিশাল বিশাল সবুজ বৃক্ষরাজি কাছে পেয়ে এখানে বেড়াতে আশা পর্যটকরা তাদের যাতায়াতের দুর্ভোগ ভুলে যান।

ভ্রমণকালীন সময়ে পর্যটকরা সদা ব্যস্ত গোসল করা, সাতার কাটা, ছবি আর সেলফিতে। আবার কেউ কেউ দেখা যায় সরাসরি লাইভে অংশগ্রহণ করে বিছনাকান্দিতে নিজের উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগে শেয়ার করে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। পর্যটক দর্শনার্থীদের এমন মিলন মেলায় গোটা বিছনাকান্দি এলাকাই এখন পর্যটক বরণে তৎপর রয়েছে। সড়ক যোগাযোগের করুন চিত্র আর দুর্ভোগ ভোগান্তিকে সাথী করে এখানে আশা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও ভ্রমণ নির্বিঘ্নকরণে উপজেলা, থানা প্রশাসন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সরেজমিন রোববার বিছনাকান্দি পরিদর্শনে কথা হয় পর্যটক, এলাকাবাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে। সকাল ১১টায় কথা হয় মুন্সিগঞ্জের টঙ্গি বাড়ী থেকে আসা পর্যটক মোনায়েম খানের সাথে। তিনি জানান, বিছনাকান্দি দিনদিন যেভাবে পর্যটক টানছে আমার দৃঢ় বিশ্বাস অদূর ভবিষ্যতে এই বিছনাকান্দি সাড়া বাংলাদেশের মধ্যে পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় স্থানে অবস্থান করবে। তবে সিলেট থেকে বিছনাকান্দি পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগের যে বেহাল দশা তাহাতে মনে হচ্ছে অত্রাঞ্চলে কোন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। সর্বত্র রাস্তায় খানাখন্দ, গর্ত আর ভাঙ্গা চুরা দৃশ্য চোখে পড়ে। এরপরও পর্যটক দর্শনার্থীর যা উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে তাতে মনে হয় এই স্থানটি পর্যটকরা নিজের করেই নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, তাছাড়া এখানকার মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী খুবই নজরকাড়া। একবার কেউ আসলে বারবার আসার জন্য হাতছানি দেয় বিছনাকান্দি। সড়ক যোগাযোগের উন্নতি সাধন করে প্রকৃতির এই অপরূপ লীলাভূমি বিছনাকান্দিকে সরকারের আয়ত্তে নিয়ে পর্যটন সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধাদি গড়ে তুললে স্থানীয়দের পাশাপাশি সরকার ব্যাপকহারে উপকৃত হবে বলে মনে করি।

পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠির পর্যটক সাইফুল ইসলাম জানান, বিছনাকান্দি পর্যটন স্পট ঘুরতে এসে সকল দুর্ভোগ-ভোগান্তি ভুলে গেছি। সড়ক যোগাযোগের ভোগান্তি নিমিষেই হারিয়ে গেছে প্রকৃতির এ অমিয় বন্ধনে। তার পরেও সরকারের কাছে একজন পর্যটক হিসাবে দাবি রাখব এই স্থানটাকে দ্রুত এবং সহজতর যোগাযোগ তৈরি করে পর্যটকদের ভ্রমণের সুবিধা করে দেওয়ার জন্য।

স্থানীয় কুপারবাজার এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন। তিনি জানান, বিছনাকান্দিতে প্রতিদিন শতশত গাড়ি নিয়ে আগমন ঘটে পর্যটক দর্শনার্থীদের। কিন্তু বঙ্গবীর থেকে হাদারপার পর্যন্ত আসার পর পর্যটকদের বিকল্প ব্যবস্থায় বিছনাকান্দি পর্যটন স্পটে যেতে হয়। কষ্টার্জিত ক্লান্তির ভ্রমণ শেষে পর্যটকরা মনের আনন্দের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার সৃষ্ট দুর্ভোগ নিয়ে বাড়ি ফেরেন যা ভ্রমণের আনন্দকে নিরানন্দে পরিণত করে।

গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাংবাদিক আব্দুল মালিক বলেন, বিগত ৯ বছর ধরে গোয়াইনঘাটের সবকটি রাস্তাঘাটের করুন দশা থাকায় এলাকাবাসীর যেভাবে কষ্ট হচ্ছে একইভাবে গোয়াইনঘাটের পর্যটন স্পটে আগত পর্যটক দর্শনার্থীদের করুন দুর্দশা পোহাতে হচ্ছে। এই অবস্থার শীঘ্রই অবসান না হলে গোয়াইনঘাটের পর্যটন স্পট সমূহ থেকে পর্যটকরা বিমুখ হতে পারেন। এমতাবস্থায়, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনয়ের সহিত অনুরোধ করবো যেন এই বৃহৎ সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব জানান, বিছনাকান্দি পর্যটন কেন্দ্রে সৌন্দর্য বর্ধন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাদি বৃদ্ধিকরণ সহ ইউনিয়ন পরিষদের তরফে বাড়তি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে প্রথমেই আনফরের ভাঙ্গায় ব্রিজসহ হাদারপার থেকে বিছনাকান্দি পর্যটন স্পট পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশায় পর্যটক দর্শনার্থীদের দুর্ভোগ ভোগান্তির অন্ত নেই। এই সড়কটি সংস্কার করে উন্মুক্ত করা হলে নৌ পথে পর্যটক যাতায়াতে ১ ঘণ্টার সময়ের স্থলে মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিটেই যানবাহন সহকারে গন্তব্যে যেতে পারবেন পর্যটকরা। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে আমি সরকারের মাননীয় সড়ক ও সেতু মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।

সরেজমিনে পরিদর্শনকালে সেখানে পাওয়া যায় গোয়াইনঘাট থানার সেকেন্ড অফিসার এস.আই বদিউজামানকে। বিছনাকান্দি পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, পর্যটকদের নির্বিঘ্নে আগমন, প্রস্থানকালে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ সবধরনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সালাহ উদ্দিন জানান, পর্যটকদের ভ্রমণ নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সড়ক যোগাযোগসহ বিদ্যমান সমস্যাগুলি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.