Sylhet Today 24 PRINT

ধর্মীয় গোড়ামিতে সিলেটে বাধাগ্রস্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১১ জুলাই, ২০১৭

জন্মনিয়ন্ত্রণে সারা দেশের চাইতে পিছিয়ে রয়েছে সিলেট। ধর্মীয় গোড়ামি, প্রবাসীবহুল অঞ্চল হওয়া, দরিদ্রতা, বাল্যবিবাহ, শিক্ষার হার কমসহ নানা কারণে সিলেট অঞ্চলে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি বাস্তবায়নে আশানুরূপ সাফল্য মিলছে না।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে মোট প্রজনন হার বা নারীপ্রতি সন্তান জন্ম (টিএফআর) যেখানে ২ দশমিক ৩ জন, সেখানে সিলেটে তা ২ দশমিক ৯ জন। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারেও সিলেটের দম্পতিরা পিছিয়ে। বর্তমানে দেশে গড়ে ৬২ দশমিক ৪ ভাগ দম্পতি পদ্ধতি ব্যবহার করেন। কিন্তু সিলেটে তা ৪৮ শতাংশ।

জন্মনিয়ন্ত্রণের বার্তা পৌঁছেনি বা সচেতনতার কর্মসূচির বাইরে আছেন, দেশে এমন দম্পতির হার ১২ শতাংশ। তবে সিলেটে তা ১৮ শতাংশ।

আজ (১১ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। এবারে দিবসের স্লোগান-‘পরিবার পরিকল্পনা, জনগণের ক্ষমতায়ন, জাতির উন্নয়ন।’ তবে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি হোঁচট খাচ্ছে সিলেটে।

সিলেটের পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে মাঠকর্মীর কাজ করছেন রওশানারা মনির রুনা। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মূলত ধর্মীয় গোড়ামি ও ধর্মান্ধতার কারণেই সিলেটে জন্মনিয়ন্ত্রণে সাফল্য মিলছে না। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণকে এখানকার অনেকে গুনাহর কাজ মনে করেন। ফলে আমরা তাদের পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসলেও তারা বেশিদিন তা গ্রহণ করেন না।

জন্ম যিনি দেবেন, তিনিই খাওয়াবেন- এরকম একটি বিশ্বাস থেকে অনেকে অধিক সন্তান গ্রহণ করে, বলেন রুনা।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আরো সচেতনতা বৃদ্ধি, ব্যাপক প্রচার প্রচারণা প্রয়োজন বলে মনে করেন রুনা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এখানকার ভৌগোলিক অবস্থান, প্রবাসী আয়সহ অর্থনৈতিক অবস্থার কারণেও এখানে পরিবার পরিকল্পনায় সাফল্য অর্জনে বেগ পেতে হচ্ছে।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হীরা লাল রায় সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ধর্মীয় গোড়ামির পাশাপাশি এখানকার প্রবাসীরা জন্মনিয়ন্ত্রণে আগ্রহী না। এছাড়া দরিদ্রতা, শিক্ষায় বিশেষত নারী শিক্ষায় অনগ্রসরতা, বাল্যবিবাহের কারণেও জন্মের হার এখানে কিছুটা বেশী।

জেলার মধ্যে কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনায় সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে হীরা লাল রায় বলেন, গত ১০ বছরে এক্ষেত্রে আমরা অনেক এগিয়েছি। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে আরো ২/৩ বছরের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবো।

সিলেটে পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সিলেট সমাজ কল্যাণ সংস্থা (এসএসকেএস)। সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমদ বলেন, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়ায়ও সিলেট অনেকটা পিছিয়ে আছে। আগের মতো মাঠকর্মীরা আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণকে পদ্ধতি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছে না। আর গ্রামের মানুষজন এখনো এতো সচেতন হয়নি যে, নিজেরা উদ্যোগে হয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে এসে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করবে। এ ব্যাপারে সরকারের বরাদ্দ ও উদ্যোগও কমে গেছে। এছাড়া এ ব্যাপারে জনবলও অনেক কম।

পরিবার পরিকল্পনায় সরকারী বরাদ্দ ও তৎপরতা বৃদ্ধির দাবি জানান বেলাল।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.