Sylhet Today 24 PRINT

‘সিলেটের নদ-নদী রক্ষা করা না গেলে হারিয়ে যাবে পর্যটন শিল্প’

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৩ জুলাই, ২০১৭

সিলেট বিভাগের চলমান বন্যা ও নদ-নদীর সার্বিক অবস্থা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টায় সিলেট সার্কিট হাউজের সভা কক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপারের আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় শাবির অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আতহারুল ইসলাম। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য আলাউদ্দিন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শরিফ জামিল, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এস. এম ফেরদৌস।

সভার শুরুতে বড় পর্দায় সিলেটের নদ-নদী নাব্যতা সংকটের বিভিন্ন দিক তোলে ধরে উপস্থাপন করে সিলেট বাপার সাধারণ সম্পাদক ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার আব্দুল করিম কিম।

তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের চারটি জেলার নিন্মাঞ্চল প্রতি বছরই বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। আবহাওয়া অফিসের সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর সিলেট বিভাগে অসময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে ৫৬ বছরের বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ভেঙে তিনগুণ বেড়ে ১০৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে। এই অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি সিলেট বিভাগের নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাওর ধারণ করতে পারছে না। এর পেছনে আরও কারণ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তলদেশ ভরাট-দখল হয়ে যাওয়ার ফলে পানি প্রাকৃতিকভাবে দ্রুত প্রবাহ হতে পারছে না। নদ-নদী, খাল-বিলগুলো মরে গিয়ে ড্রেনে পরিণত হয়েছে। এর ফলে অঞ্চল ভেদে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা।

সম্প্রতি প্রকাশিত সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ উপস্থাপন করে মূল বক্তব্যে তিনি বলেন ‘নদী মরে যাচ্ছে’ । অতীতে সিলেট অঞ্চলের যে নদ-নদীগুলো যে পানি ধারণ করতে পারতো এখন তা পারছে না। অধিকাংশ হাওরের তলদেশ ভরে গেছে। বেসরকারি সংগঠন পরিপ্রেক্ষিতের জরিপকৃত পরিসংখ্যান তোলে ধরে তিনি বলেন, মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওড়ের ২৮১টি বিলের মধ্যে সম্পূর্ণ ও আংশিক ভরাট হয়ে গেছে ১৩৩টি বিল। সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারাসহ সিলেটের বিভিন্ন জেলা উপজেলা ও ইউনিয়নে প্রবাহিত ১১৪টি নদীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই নদীগুলোর প্রবাহের মধ্যেই সিলেটের ভবিষ্যৎ। এই ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে নদীর তলদেশ ভরে যাওয়ার কারণে।

সিলেটের অধিকাংশ বড় নদীর উৎস ভারতের পাহাড়ি ঢল বেয়ে আসা পানি । সেখান থেকে প্রবাহিত পানি দিয়েই নদীগুলোর ছুটে চলা। এই পাহাড় ঢল হিসেবে নেমে আসা পানির লাখ লাখ টন বালি ও মাটি বছরের পর বছর ধরে সিলেট বিভাগের নদ-নদী, হাওর বাওরকে ভরাট করে দিচ্ছে। সম্প্রতি তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বালি ও মাটি শুধু নদ-নদীর তলদেশ নয় উৎসমুখও বন্ধ ভরাট করছে। যার প্রমাণ হিসেবে ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে মাও সাংসাং থেকে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেটের জকিগঞ্জের অমলসীদ হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা দুই শাখায় প্রবাহিত হয়েছে। সেখানে দীর্ঘ এক দশক ধরে সুরমার প্রবেশ মুখে ভরাট হচ্ছে। যার ফলে শুষ্ক মৌসুমে বরাকের পানির ৮৫ শতাংশ কুশিয়ারা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে হয়ে যায় সুরমা নদী। চর জেগে উঠে সুরমার বুকে। পানি শূন্য এসব নদীর চর মানুষ দখলে নিতে চায়। এতে নদীর মাটি শক্ত হয়ে বর্ষায় প্লাবনের সৃষ্টি করে।

সিলেটের অনেক নদী আন্ত:সীমান্ত নদী। যা প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে সিলেটে প্রবেশ করছে। নদীগুলো ভারত শাসন ও শোষণ করে চলেছে। উজানে ভারতের বৈরি আচরণের সাথে দেশেও নদীর সাথে নিপীড়ন চলছে। বালু ব্যবসায়ী, পাথর খেকোরা ও প্রভাবশালীরা ইচ্ছে স্বাধীন খননের ফলে ডাউকি নদীসহ অনেক নদী হারিয়ে গেছে। ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তে সুরমার উৎসমুখে খননের প্রয়োজনীয়তা যৌথ নদী কমিশনের জরুরীভাবে উত্থাপন করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। তা না হলে অচিরেই সিলেট হারিয়ে যাবে বলেও আশংকা প্রকাশ করেন তিনি

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. আতহারুল ইসলাম বলেন, দেশের বর্তমানের পর্যটন শিল্প সিলেটের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সিলেটের পর্যটনও নির্ভর করে এসব নদ-নদীর উপর। এসব নদ-নদী রক্ষা করা না গেলে পর্যটন শিল্পও হারিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, পাহাড় –বনাঞ্চল-নদ-নদী রক্ষা করা না গেলে নৈসর্গিক সৌন্দর্য থাকবে না। এর সমাধানের জন্য মাস্টার প্ল্যান নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে যৌথ নদী রক্ষা কমিশনের সাথে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরিগেশন অ্যান্ড প্রজেকশন বিভাগের ডিন প্রফেসার ড. পীযুষ কান্তি সরকার, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন ড. মো. মেহেদী হাসান খান, নাগরিক মৈত্রী সিলেটের আহবায়ক অ্যাডভোকেট সমর বিজয় সী শেখর, সারি নদী বাঁচাও আন্দোলনের আহবায়ক আব্দুল হাই আল-হাদী, জৈন্তাপুরের চারিকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম চৌধুরী তোফায়েল, সামাজিক সংগঠন অঙ্গীকার বাংলাদেশের পরিচালক মইনুদ্দিন জালাল, সিলেট বাপার সুপ্রজিত তালুকদার, মাহবুব আলম সুন্না, মুন জেরিন চৌধুরী।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.