নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৯ জুলাই, ২০১৭
চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত একটি মামলার রায়ে বিতর্কিত শিল্পপতি রাগীব আলীর জামাতা জিএম আব্দুল কাদিরকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত কাদিরকে তিন কোটি টাকা জরিমানা করেছেন। বুধবার বিকেলে সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধা এ রায় দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মফুর আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আব্দুল কাদিরের শ্বশুর রাগীব আলী তারাপুর চা বাগান সংক্রান্ত দুটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে রয়েছে। তারাপুর সংক্রান্ত একটি মামলায় আব্দুল কাদির ও তাঁর স্ত্রী (রাগীব আলীর মেয়ে) রোজিনা কাদিরকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। তারা দু'জনে পলাতক রয়েছেন।
বুধবার রায় ঘোষিত হওয়া মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০৯ সালে হাজি আবদুস সাত্তারের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলে জিএমএ কাদির (আব্দুল কাদির) ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা নেন। এর বিপরীতে চারটি চেক দেয়া হয়েছিল সাত্তারকে। পরে জিএমএ কাদির সাত্তারের সাথে প্রতারণা করেন। একপর্যায়ে আবদুস সাত্তার চেক ডিজঅনার মামলা করেন জিএমএ কাদিরের বিরুদ্ধে। বুধবার মামলার রায় সিলেটের আদালতে ঘোষণা করা হয়। এই মামলায় তাকে এক বছরের সাজা প্রদান করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত আরো দুটি মামলা ঢাকার আদালতে বিচারাধীন।
মামলার বাদী আবদুস সাত্তার জানান, এ রায়ে আমি খুশি। একজন প্রতারকের বিরুদ্ধে যথাযথ বিচার পেয়েছি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হিরা জানান, ৮ কোটি টাকার তিন মামলার এক মামলায় তার সাজা হয়েছে। অন্য মামলায়ও আশা করি সাজা হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৬ এপ্রিল প্রতারণার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা মূল্যের তারাপুর চা-বাগানের দেবোত্তর ভূমি আত্মসাতের মামলায় রাগীব আলীর ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। ওই মামলায় তার ছেলে আব্দুল হাই, মেয়ে রোজিনা কাদির, জামাতা আব্দুল কাদির ও নিকটাত্মীয় মোস্তাক মজিদকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো।