Sylhet Today 24 PRINT

প্রশাসনের ‘বৈধতা নিয়ে’ হবিগঞ্জে চলছে অবৈধ ইজিবাইক, বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনা

শাকিলা ববি, হবিগঞ্জ |  ০৩ আগস্ট, ২০১৭

ঝুঁকিপূর্ণ ও বিদ্যুৎনির্ভর হওয়ায় সারাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচল। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হবিগঞ্জে ১২শ' ইজিাবাইকের অনুমোদন দিয়েছে পৌরসভা। ছোট্ট শহের অনুমোদিন ও অননুমোদন দুই সহস্রাধিক ইজিবাইেকর কারেণ সবসময়ই লেগে থাকে যানজট। দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত।

ইজিবাইকের বন্ধ হওয়ার পক্ষে নিজের অবস্থান জানিয়ে পৌর মেয়র বলছেন, স্থানীয় সাংসদেদের চাপে ইজিবাইক চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এরফলে হবিগঞ্জ শহরবাসীর দূর্ভোগের অন্যতম কারল হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব ইজিবাইক। যা টমটম নামেই পরিচিত।  টমটমের কারণে শহরে যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায় প্রতিদিনই। এছাড়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকদের বেপরোয়া চালানো, যাত্রীদের সাথে খারাপ ব্যবহার, নির্ধারিত ভাড়া চেয়ে অধিক ভাড়া দাবি করায় প্রায়ই শহরের রাস্তায় বাকবিতন্ডা লেগে যায়।

পৌর এলাকার ঝিলপাড় এলাকার রোকেয়া বেগম জানান, তিনি সবুজবাগ থেকে শায়েস্তানগর ট্রাফিক পয়েন্টে এলাকায় গেলে টমটম ড্রাইবার তার কাছে নির্ধারিত ভাড়া ৫ টাকার বদলে ১০টাকা দাবি করেন। তিনি ১০ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় টমটম চালক তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। পরে স্থানীয় জনগন এগিয়ে এলে চালক গাড়ি নিয়ে চলে যায়।

পৌরকতৃপক্ষ ও টমটম মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সূত্রে জানা যায়, শহরে নিবন্ধিত টমটম আছে ১২শ' টি। তবে নিবন্ধিত ও নিবন্ধত ছাড়া প্রায় ২ হাজার টমটম বর্তমানে চলাচল করছে হবিগঞ্জ শহরে।

শহরবাসী জানান, শহরে প্রধান সড়ক চৌধুরী বাজার থেকে শায়েস্তানগর পর্যন্ত রয়েছে ৩ কিলোমিটার সড়ক এবং পেছনের সড়ক যা বেক রোড নামে পরিচিত, সেখানে রয়েছে ৩.৫ কিলোমিটার। এই অল্প পরিমান সড়কে ১২শ' টমটম চলাচলই অতিরিক্ত। তার উপড় বর্তমানে পৌরসভার নাম্বার প্লেইট ছাড়াও অসংখ্য টমটম চলছে অবাদে। যার ফলে শহরবাসীর প্রতিদিনের সঙ্গী হচ্ছে যানজট ও দুর্ঘটনা।

এ ব্যাপারে আইনজীবি ফাতেমা ইয়াছমিন বলেন, আমাদের শহর এখন টমটমের শহর হয়ে গেছে। রাস্তা বের হলে টমটমের যন্ত্রনায় হাঁটা যায় না। বেপরোয়া ভাবে চালিয়ে যেকোনো সময় গাড়ি মানুষের উপড় তুলে দেয়। রাস্তায় মানুষের চেয়ে টমটম বেশি দেখা যায়। সরকারের নিষেদাজ্ঞার পরও শহরবাসীর সুবিধার জন্য টমটমের চলাচলা শুরু হলেও এখন এই টমটমই শহরবাসীর দূর্ভোগের কারন হয়ে দাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর হবিগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, যে গাড়িতে ইঞ্জিন নেই সেটিকে তারা যানবাহন বলে গন্য করে না।

এ বিষয়ে বিআরটিএর হবিগঞ্জ সার্কেলের সহকারী উপপরিচালক মোঃ আবু নাঈম বলেন, টমটমের যেহেতু ইঞ্জিন নেই তাই সেটি আমাদের প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন না এবং এর লাইসেন্সও আমরা দেই না। হবিগঞ্জ শহরে টমটম রাস্তায় চলাচল হচ্ছে মূলত জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।

সরকার কতৃক সারা দেশে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক/ টমটম অবৈধ্য ঘোষনা হলেও হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা তার বৈধ্যতা দিয়েছে শহরে চলাচলের জন্য। পৌরসভার রাস্তা ব্যবহারের পার্কিং ফি রেখে একটি নম্বার প্লেইট দিচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র জিকে গউছ বলেন, টমটম বা ইজি বাইক যেহেতু যানবাহন ক্যাটগরিতে পরে না তাই পাকিং ফি নেয়া যায় না। সরকার ইজিবাইক বা ব্যাটারি চালিত টমটম নিষিদ্ধ করেছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি আমরা পৌরসভার পক্ষ থেকে আইনশৃংখলা বাহীনির সহযোগিতায় বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়েছি। টমটম বন্ধ করার জন্য আমি বারবার আইনশৃংখলা মিটিং এ আমার উপস্থাপন করেছি। আইনশৃংখলা মিটিংয়ে সংসদ সদস্যরা থাকেন। তারা টমটম চলার পক্ষে মত দেন। ওই সভায়ই সিদ্ধান্ত হয় ১২০০ টমটম হবিগঞ্জ পৌরসভায় চলবে।

তিনি আরো বলেন, আমার মতে এই ছোট শহরের জন্য এই পরিমান টমটম অনেক গুন বেশি। আইনশৃংখলা মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ম ধাপে ৮০০ ২য় ধাপে ১০০০ টমটম চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। পরবর্তিতে আমি কারগারে থাকা অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত মেয়র আইনশৃংখলা মিটিং এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২০০টমটম শহরে চলাচলের জন্য অনুমতি দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন শহরে আইনশৃংখলা বাহীনির সহযোগিতায় টমটম মুক্ত হয়েছে। আমরা পৌরকতৃপক্ষ চাই হবিগঞ্জ শহরকে টমটম মুক্ত করতে। আমি পরবর্তী আইনশৃংখলা মিটিং এ অনুরোধ করব টমটম বন্ধ করতে অথবা এর সংখ্যা কমানোর জন্য। এ ব্যপারে যদি জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সিদ্ধান্ত হয় এবং আমাদের বলে দেয় কোনো ধরনের পার্কিং ফি নিবেন না । শহরে কোনো টমটম থাকবে না। তাহলে কমিটির তরফ থেকে যে আদেশ আসবে সেটা আমরা যথাযত ভাবে পালন করব।

হবিগঞ্জ টমটম মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এনএম ফজলে রাব্বী রাসেল বলেন, বর্তমানে শহরে পৌরসভার নাম্বার প্লেইটধারী ১২০০ টমটম আছে। তবে ইদানিং শহরে অবৈধ টমটম বৃদ্ধি পেয়েছে। নাম্বার প্লেইট ছাড়া অবৈধ্য টমটম শহরে চলাচল করায় যানযট ও সৃষ্টি হচ্ছে।  এ ব্যাপারে প্রশাসন যদি কঠোর হয় তাহলে এই অবৈধ্য টমটম ঠেকানো সম্ভব।

পুলিশ ট্রাফিক শাখার হবিগঞ্জের যানবাহন পরিদর্শক স্নেহাংশু বিকাশ সরকার বলেন, টমটমের ব্যাপারে খুব অসহায় অবস্থায় আছি আমরা। শহরের যানযট নিয়ন্ত্রন করতে পারছি না শুধুমাত্র টমটমের জন্য। টমটম সারা দেশে অবৈধ্য কিন্তু হবিগঞ্জের জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধে আইনশৃংখলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অবৈধ্য জিনিসের বৈধতা দেয়া হয়েছে তার উপর এতটুকুন রাস্তায় চলাচলের জন্য ১২০০ টমটম অনেক বেশি। ফলে রাস্তায় বের হলে যাত্রীর চেয়ে টমটম বেশি দেখা যায়। টমটমের সংখ্যা যদি ৬০০ তে নামিয়ে আনা যায় তাহলে কিছুটা সহনীয় হয়ে আসবে।

এ বিষয়ে আইন শৃংখলা কমিটির সদস্য সচিব অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল ইসলাম বলেন, আমি দুই মাস হল এ পদে যোগ দিয়েছি। তাই এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

আইন শৃংখলা কমিটির সহ-সভাপতি নবাগত পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা বলেন, টমটম অবৈধ। এর চালকগুলোও থাকে অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক। টমটম রাস্তায় চলাচলের পুরো প্রক্রিয়াটাই অবৈধ।

তিনি বলৈন, হবিগঞ্জ জেলায় আমি গত শনিবার যোগ দিয়েছি। এবিষয়ে পুরো না জেনে আমার মন্তব্য করা ঠিক না। আর র্দীঘদিন ধরে চলে আসা এ টমটমের ব্যাপারে হঠাৎ করে কোন সিদ্ধান্তও দেয়া যাবে না। আগামি আইনশৃংখলা মিটিংয়ে আমি এ বিষয়ে কথা বলব।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.