Sylhet Today 24 PRINT

২০২১ সালের মধ্যে দেশের সকল মানুষ বিদ্যুৎ পাবে : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২২ মে, ২০১৫

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি বলেছেন, মানুষের দাবি এখন খুব বেশি নেই। শুধু দাবি থাকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের। তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ৬৭ ভাগ মানুষ বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সকল মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে।

মন্ত্রী শুক্রবার বিকেলে সিলেট শহরতলীর খাদিমপাড়া ইউনিয়নের ধলইপাড়ায় স্যোশাল ডেভেলপম্যান্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) এর উদ্যোগে গ্রাম সমিতির নবনির্মিত ৪টি অফিস ভবনের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, গ্যাস মূল্যবান সম্পদ। এটা দিয়ে কলকারখানা পরিচালিত হয়। নতুন করে এখন আর কেউ গ্যাস সংযোগ পাবে না।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দেশে বিদ্যুতের কোন সংকট নেই। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ আছে। নতুন চাহিদা মেটাতে আরো বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে খাদ্যে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। দারিদ্রতা বিমোচন এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ইতিমধ্যে দারিদ্র বিমোচন ও শিক্ষার উন্নয়নে সরকার নানামুখি উদ্যোগ নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন উপায়ে দারিদ্র বিমোচনের চেষ্টা চলছে। তার মধ্যে এসডিএফ একটি সফল প্রকল্প। এটা গ্রাম পর্যায়ে সফলতা লাভ করেছে। দেশে এসডিএফ এর কার্যক্রম আরো ৬ বছর চলবে।

আবুল মাল মুহিত বলেন, দারিদ্রতা দেশে একসময় প্রধান সমস্যা ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দারিদ্রতার হার ছিল ৭০ ভাগ। বর্তমানে এর হার ২৪ ভাগে নেমে এসেছে।

স্বাধীনতা পরবর্তী ৪০ বছরে সবাইকে দারিদ্রসীমার নিচে নিয়ে যেতে না পারায় মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তবুও যুদ্ধ বিধ্বস্ত গরীব দেশ হিসেবে এ পর্যন্ত যা হয়েছে তা খারাপ হয়নি। এখন দেশে ভিক্ষুক নেই এটা আমাদের গর্বের বিষয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ভিক্ষুক পুনঃর্বাসনের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে যারা এখন ভিক্ষা করছে এটা তারা ইচ্ছাপূর্বকভাবে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছে। এদের এই অভ্যাস কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।

সরকার দেশের মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে আবুল মাল মুহিত বলেন, মানুষ না খেয়ে এখন মরে না। সবাই এখন বিশুদ্ধ পানি খেতে পায়। খাবার পানি এবং স্যানিটেশন একসময় বাংলাদেশে বিরাট সমস্যা ছিল। বর্তমানে সেটি নেই। গ্রামেগঞ্জে সব জায়গায় মানুষ বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে, স্যানিটেশনের সমস্যা নেই। সবমিলিয়ে দেশের মানুষ এখন সুখে আছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসডিএফ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এজেডএম সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এসডিএফ এর পরিচালক সৈয়দ এফতার হোসেন পিয়ার। বক্তব্য রাখেন দলইপাড়া গ্রাম সমিতির সদস্য পুষ্পরাণী পাত্র। সম্মানীত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবির, সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. মাহবুবুর রহমান, খাদিমপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বিলাল, সমাজসেবী মখলিছুর রহমান।

এর আগে বিকেলে মন্ত্রী শহরতলীর ইসলামপুর (মেজরটিলা) বাজারে জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতির নতুন ভবনের উদ্বোধন এবং দুপুরে নগরের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় আয়োজিত ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় বিভাগীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

জেলা পরিষদের জয়িতা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার জামাল উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। বক্তব্য রাখেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী এমপি, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের ২০জন জয়িতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে শ্রেষ্ট ৫জন বাছাই করা হয়। এর মধ্যে অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনকারি রুকসানা চৌধুরী (মৌলভীবাজার), শিক্ষা ও চাকুরির ক্ষেত্রে হুসনে আরা বেগম (মৌলভীবাজার), সফল জননী নারী মোসাম্মৎ হাজেরা খাতুন (সুনামগঞ্জ), নির্যাতনের বিভীষীকাময় অবস্থান থেকে বেরিয়ে নতুন উদ্যোমে জীবনযাত্রায় সফল নারী জাহানারা বেগম (সিলেট), সমাজ উন্নয়নে অবদানের ক্ষেত্রে শেফালী রাণী (হবিগঞ্জ)।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.