Sylhet Today 24 PRINT

হাকালুকি হাওরে রাতভর মাছ লুট!

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি |  ২৩ আগস্ট, ২০১৭

দেশের সর্ববৃহৎ মিঠা পানির মৎস্যভান্ডার খ্যাত হাকালুকি হাওরে চলছে অবাধে মাছ শিকার। হাওরের বুকজুড়ে চলে সারারাত মাছ লুটপাট। ভোরের আলো ফোটার আগেই সেই মাছ চলে যায় দূর দূরান্তে। হাওর তীরের কুলাউড়া জুড়ী ও রাজনগর থানার পুলিশ মাছ বোঝাই এসব গাড়ী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পায় নিয়মিত মাসোহারা। এসব লুটেরাদের কাছে পোনা মাছও রক্ষা পায় না। ফলে হুমকির মুখে দেশের সর্ববৃহৎ এই মিঠা পানির মৎস্য ভান্ডার।

হাকালুকি হাওর তীরের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তরা দিনের বেলায় হাওরে ভ্রাম্যমান অভিযান চালান। জাল আটক করেন। তা জনসমক্ষে পোড়ানো হয়। তবে অন্ধকার নামলেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। শত শত অবৈধ জাল নিয়ে লুটেরারা নামে হাওরে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জাল টানার জন্য প্রতিটি জালে ভাড়াটে লোক থাকেন ৫-৬ জন। এসব লোকের পেছনে জনপ্রতি ব্যয় করতে হাজার টাকারও বেশি। সারারাত হাকালুকি বুক চিরে লুট করা মাছ ভোরের আলো ফোটার আগেই মৌলভীবাজার জেলা ত্যাগ করে। এসব মাছ কিনতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতারা আসেন হাকালুকি হাওরে। নৌকার মধ্যেই চলে মূয পরিশোধ ও মাছ বুঝিয়ে দেয়ার কাজ।

মাছ নির্বিঘ্নে নিয়ে যেতে মাসোহারা গুণতে হয় মাছ ব্যবসায়ী এবং মাছ টানার কাজে নিয়োজিত গাড়ী চালকদের।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, গাড়ি প্রতি কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা করে পুলিশকে মাসোহারা দিতে হয়। এসব মাসোহারা যায় হাওর তীরের জুড়ী, কুলাউড়া ও রাজনগর থানার পুলিশের পকেটে। এসব থানার কয়েকজন পুলিশ অফিসার এর সাথে জড়িত।

এদিকে গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে এসব মাছ ক্রেতাদের টাকা লুট করতে হানা দেয় ডাকাতদল।  এতে রাতজুড়ে হাওর তীরের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, হাকালুকি হাওরের সবচেয়ে বড় মাছ লুটেরাদের অবস্থান জুড়ী উপজেলার বেলাগাঁও গ্রামে। এছাড়া কুলাউড়া উপজেলার সাদিপুর, বড়লেখা উপজেলার বর্ণি, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার আশিঘর এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর এলাকায়। শত শত বেড়জাল রয়েছে একেকটি গ্রামে। হাকালুকি হাওর তীরের মৎস্য অফিসগুলো পুরো বিষয়টি জানলেও নির্বিকার।

কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য অফিসার সুলতান মাহমুদ জানান, হাওরে দিনে অভিযান চালাতে হলেও অনেক প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হয়। আর রাতে অভিযান চালানো দুষ্কর। চলতি বর্ষা মৌসুমে হাওরে ২ দফা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে। চেষ্টা চলছে এসব লুটপাট বন্ধের।

আর মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ তিনি শুনেছেন। তা বন্ধে ব্যবস্থা নেবেন। এর সাথে পুলিশ সম্পৃক্ত থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.