মিনহাজ উদ্দিন, জৈন্তাপুর থেকে ফিরে | ২৫ আগস্ট, ২০১৭
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং ফতেপুর ইউনিয়নের উত্তর বাঘেরখাল গ্রামের একটি গ্রামীণ রাস্তা নিয়ে প্রতিবেশী দু‘টি পরিবারের মধ্যে বিরুদ্ধের জের ধরে উভয় পক্ষ থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ ও মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে।
জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ একটি পক্ষের দায়েরকৃত অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে। যার মামলা নং-০১, তারিখ:-২/৭/২০১৭ ইং।
বিরোধপূর্ণ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছেন গ্রামের অন্তত শতাধিক পরিবারের লোকজন। তবে উক্ত রাস্তায় উভয় পক্ষের কিছু যৌথ মালিকানাধীন জায়গা হওয়ায় কোন পক্ষই এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দিতে রাজি না থাকায় তাদের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষই তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন জায়গা দাবী করে পৃথক দু‘টি স্থানে বেড়া ও রাস্তা কেটে গর্ত করে গ্রাম ও স্থানীয় লোকজনের যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছেন।
এ নিয়ে উভয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ,জনপ্রতিনিধিসহ সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার চেষ্টাও করে যাচ্ছেন।
সরজমিনে এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সূত্রে জানা গেছে, রাস্তায় উভয় পক্ষের চলাচলের সুবিধাকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের গত ২৪ জুন উক্ত পরিবার দু‘টির মধ্যে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে,বিরোধীয় এক পক্ষের সিরাজুল হকের পরিবার প্রথমে তাদের ভোগদখলীয় জায়গা দাবী করে রাস্তার একটি অংশের মাটি কেটে গর্ত সৃষ্টি করে স্থানীয় জনসাধারণের চলাচল কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এ নিয়েই মূলত:এই দু‘টি পরিবারের মাঝে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।
এই রাস্তা কাটাকে কেন্দ্র করে তাদের উভয় পরিবারের মধ্যে গত ২৪ জুন সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনায় সিরাজুল হক ও তার ভাই ফারুক আহমদ গুরুত্বর আহত হন।
অপরদিকে একই ঘটনায় মো. কুতুব উদ্দিনের ভাই জালাল উদ্দিনও আহত হয়েছেন বলে তাদের দায়েরকৃত অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে কুতুব উদ্দিন ও তার সহযোগিতাদের পক্ষ থেকেও রাস্তাটির কতিপয় অংশ নিজেদের দাবি করে তাদের ভূমির উপর দিয়ে চলে আসা রাস্তা দিয়ে সিরাজ উদ্দিন ও তার সহযোগিতারা যাতে চলাচল না করতে না পারেন সে লক্ষে বিভিন্ন স্থানে কাঁটাযুক্ত কেওয়া ও বাশেরবেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে উভয় পরিবারের পাশাপাশি গ্রামের বসবাসরত শতাধিক পরিবারের মানুষজন স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগ ভোগান্তিতে পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, জৈন্তাপুরের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ মো. জয়নাল আবেদীন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ, জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার (ইনচার্জ) খান মো. মাঈনুল জাকির, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভী রহমত উল্লাহ সহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ বিষয়টি সরজমিনে পরিদর্শন করে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে রাস্তাটিতে উভয় পরিবারের ধারা সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার চিত্রটি চোখে পড়ে। কেওয়া বনসহ বাঁশের বেড়া দেয়ার চিত্র চোখে পড়ে। উত্তর বাঘেরখাল গ্রামের বাসিন্দা ফারুক আহমদ জানান, এটা গ্রামের প্রধান রাস্তা। কুতুব ও তার সহযোগিতাদের বিরোধের জের ধরে রাস্তাটি বন্ধ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক গ্রামবাসী জানান, কুতুব নয় বরং সিরাজ উদ্দিন ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরাই এ ঘটনার জন্য দায়ী। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ জানান, অন্তত ১০/১২ বছর থেকে থেকে উত্তর বাঘেরখাল গ্রামের মানুষ এই মাটির রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছেন। গত ১৭ আগস্ট পুনরায় আবার সিরাজুল হক পক্ষের লোকজন তাদের বাড়ির পুকুর পারের একটি অংশ কেটে গর্ত সৃষ্টি করেন এবং পরবর্তীতে কুতুব উদ্দিন অনুরূপভাবে রাস্তায় কাঁটাযুক্ত কেওয়া আর বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। গ্রামের প্রতিবেশী এই দু‘টি পরিবারের বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাধারণ মানুষজন চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে তারা সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সিরাজুল হক জানান ,আমার ভোগদখলীয় বাড়ির পুকুর পার দিয়ে রাস্তা রয়েছে। বর্তমানে আমার পারিবারিক অসুবিধার জন্য লোকজনের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিকল্পভাবে আমার নিজের মালিকানাধীন জায়গার উপর দিয়ে একটি রাস্তা তৈরি করে দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। ইতোমধ্যে রাস্তার কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. কুতুব উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমাদের প্রতিবেশী‘র সাথে যৌথ মালিকানাধীন জায়গার উপর রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। দীর্ঘ দিন থেকে গ্রামবাসী এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। সিরাজুল হকের পরিবার হঠাৎ করেই এক্সেভেটর দিয়ে তাদের মনগড়াভাবে রাস্তার মাটি কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় স্থানীয় বাসিন্দা সহ আমাদের পরিবারের লোকজনের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ফতেহপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ জানান, উত্তর বাঘেরখাল গ্রামের গ্রামীণ রাস্তাটি দুই পরিবারের বিরোধের জন্য বন্ধ রয়েছে। কুতুব উদ্দিনসহ গ্রামের লোকজনের মতামত উপেক্ষা করে সিরাজ এক্সেভেটর দিয়ে রাস্তা কেটে দেওয়ায় কুতুব উদ্দিন রাস্তা কেটে দেন। এর জন্য সিরাজ বেশি দায়ী। বিষয়টি সমাধানে চেষ্টা চলছে।
জৈন্তাপুরের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি উভয় পরিবারের মধ্যে চলমান রাস্তার বিরোধ নিষ্পত্তি করতে। আশা করছি এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে উভয় পরিবার সামাজিক বিচারে তারা সহযোগিতায় করতে এগিয়ে আসবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ জানান, আমরা চেষ্টা করেছি তাদের বিরোধ স্থায়ীভাবে নিষ্পত্তি করে দিতে। যেহেতু আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে এখানে স্থানীয় নিষ্পত্তি করার আর কোন সুযোগ নেই। তবে উভয় পক্ষ একমত হলে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।