Sylhet Today 24 PRINT

ঈদে হবিগঞ্জের রাইস মিলগুলোতে ব্যস্ততা

শাকিলা ববি, হবিগঞ্জ  |  ২৮ আগস্ট, ২০১৭

ঈদুল আযহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এই ঈদে বিভিন্ন উপকরণের মধ্যে অন্যতম হল চালের গুড়া। কারণ শুধু পিঠা পুলি নয় এই ঈদে খাবার তালিকার একটি বিশেষ অংশ জুড়ে থাকে চালের রুটি আর গরুর মাংসের তরকারি। ঈদ পরবর্তী প্রায় সপ্তাহ খানেক এই পদের খাবারই চলে প্রতিটি বাঙালি মুসলিম ঘরে। রুটি ছাড়াও ঈদ পরবর্তী মাংসের পিঠাও খুব জনপ্রিয়। তাই প্রতি কোরবানি ঈদেই অন্যান্য উপকরণের পাশাপাশি চালের গুড়ার চাহিদা ও বৃদ্ধি পায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয় নি।

হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন রাইস মিলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সবগুলো রাইস মিলেই গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন রাইস মিলগুলোর কর্মীরা।

শহরের কোট স্টেশন এলাকার একটি রাইস মিলের মালিক সাজিদুর রহমান বলেন, সারা বছর তেমন চাহিদা না থাকলেও কোরবানি ঈদেই চাল গুড়া করানোর চাহিদা বেড়ে যায়। ঈদের সিজন ছাড়া অন্য সময় সকাল থেকে মেশিনে ধান ভাঙার কাজ হয়। এখন সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাল গুড়া করা হয়। তিনি আরও জানান, কোরবানি ঈদে মসলার ও চাহিদা থাকে তাই সন্ধ্যা থেকে মসলা গুড়া করা হয়।

৫ টাকা কেজি দরে চাল ও ২৫ টাকা কেজি দরে মসলা গুড়া করা হয় মিলগুলোতে। চাল ও মসলার বেশির ভাগই আবাসিক গ্রাহক। তবে কিছু ব্যবসায়ী গ্রাহকও রয়েছে।

রাইস মিলের মালিক সাজিদুর রহমানের সাথে কথা বলতে বলতে বেশ কিছু গ্রাহক চলে আসেন। তাদের মধ্যে প্রায় সবাই এসেছেন নিজের পরিবারের জন্য চাল, মসলা গুড়া করাতে। এর মধ্যে ৫০ কেজি আতপ চালের বস্তা নিয়ে আসেন ফায়ার সার্ভিস এলাকার ব্যবসায়ী মোজাফফর হোসেন। তিনি বলেন, এই ঈদে চালের গুড়ার চাহিদা বেশি তাই বেশি পরিমাণ চাল গুড়া করিয়ে নিচ্ছেন বিক্রি করার জন্য।

শহরের রাজনগর এলাকার হামিদা বানু আসেন ১০ কেজি চাল নিয়ে। বললেন, ঘরের সবাই ব্যস্ত তাই আমিই আসলাম চাল গুড়া করাতে। নাতি নাতনিদের পিঠা করে খাওয়াব। আমার ছেলে মেয়েরা চালের রুটি পছন্দ করে। তাই একটু বেশি করে চাল গুড়া করালাম।

তাদের সাথে কথা বলতে বলতে অনেক গ্রাহক এসে ভিড় দেখে চাল ওজন করিয়ে চালের ব্যাগে টোকেন লাগিয়ে চলে যান। রাইস মিলের মালিক সাজিদুর রহমান বলেন, যাদের অন্য কাজের তাড়া আছে তারা চালের ব্যাগে টোকেন লাগিয়ে চলে যান । ঘণ্টা খানেক পর এসে চালের গুড়া নিয়ে যান।

মোহনপুর এলাকার হাজী আব্দুল আজিজ চৌধুরী আসেন ৫ কেজি চাল নিয়ে। তিনি বলেন, কোরবানি ঈদে রুটি মাংস খাওয়া হয় এই জন্য চাল গুড়া করাতে এসেছেন। তবে ঈদের পরে মাংস পিঠা বানানোর জন্য ও চালের গুড়া লাগে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.