Sylhet Today 24 PRINT

বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ

শিপার আহমেদ, বিয়ানীবাজার |  ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের মাঝে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারিভাবে সরবরাহ করা সকালের নাস্তা এবং দুপুর ও রাতের খাবার এতই নিম্নমানের যে এগুলো খেয়ে রোগীরা আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

তাছাড়া রোগীদের খাবার যে রান্নাঘরে তৈরি করা হয় তার অবস্থাও চরম অস্বাস্থ্যকর। গত কয়েক বছর থেকে এ অবস্থা চলতে থাকলেও সংশ্লিষ্টদের তাতে কোনো গরজ নেই।

এদিকে গত প্রায় ৪ বছর থেকে বিনা দরপত্রে খাবার সরবরাহ করছেন সঞ্জীব কর নামের জনৈক ব্যক্তি। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় খাবার সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ কোনো দরপত্র আহ্বান করতে পারছে না বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান।

তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ ১৭ জুলাই দরপত্র আহ্বানের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আরো ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দেন। এভাবে চার বছর থেকে ছয়মাস করে স্থগিতাদেশ দেয়া হচ্ছে।’

জানা যায়, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেশিরভাগ আবাসিক রোগী মহিলা ও শিশু। সিলেট জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি ভালো মানের সেবা দেয়ায় এখানে রোগীর সংখ্যা বেশি। একাধিকবার হাসপাতালটি জাতীয় পুরস্কারও লাভ করেছে। বিশেষ করে সিজারিয়ান অপারেশনে সফলতার কারণে দেশব্যাপী সাড়া ফেলেছে এ প্রতিষ্ঠান। সেবার মান নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কারো বড় ধরনের কোনো অভিযোগ নেই।

শুধুমাত্র খাবার সরবরাহ নিয়ে রোগীদের অভিযোগের শেষ নেই। এখানে বোয়াল মাছের বদলে রোগীদের দেয়া হয় পাঙ্গাস মাছ, এমন বিস্ময়কর তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যান্য যেসব খাবার সরবরাহ করা হয় সেগুলোও অস্বাস্থ্যকর।

হাসপাতালের প্রধান সহকারী রফিক উদ্দিন বলেন, ‘কে.বি সাইনের স্বত্বাধিকারী সঞ্জীব কর নামক ব্যক্তি বিগত দিনে খাবার সরবরাহের দরপত্র না পাওয়ায় উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করে স্থিতাবস্থা নিয়েছেন। আর আদালতের আদেশে ওই ব্যক্তি হাসপাতালে খাবার সরবরাহ করছেন।’

তার দাবি, নিয়মিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খাবারের মান যাচাই করেন। কিন্তু এর ফাঁকেও নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হতে পারে। তবে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।’ নিম্নমানের খাবারের কারণে রোগীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছেন বলে তিনি মত দেন।

সূত্র জানায়, রোগীদের মাঝে সরবরাহ করা সকালের নাস্তায় পাউরুটি, ডিম ও কলা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু পাউরুটির সাথে শুধুমাত্র কলা সরবরাহ করা হচ্ছে। কলাও আবার অতি নিম্নমানের।

পাউরুটিগুলো মুখে দেয়া যায় না বলে জানান শ্বাসকষ্টের রোগী তরমুছ আলী (৬৫)। দুপুরের খাবারে মাছ অথবা মাংস দেয়ার নিয়ম। তবে এই দু’বেলা মাছ-মাংস রান্নায় মসলা কেবলমাত্র ছোঁয়ানো হয় বলে রোগী রুবিনা বেগম (২৯) অভিযোগ করেন। সরবরাহ করা ভাতও দুর্গন্ধযুক্ত বলে তিনি জানান। রোগীরা অভিযোগ করেন, অনেক সময় ভাতে মৃত তেলাপোকা, বিভিন্ন ধরনের পোকা ও ময়লা জিনিস পাওয়া যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাবার সরবরাহকারী সঞ্জীব কর দীর্ঘদিন থেকে হাসপাতালে খাবার ও মনোহারী দ্রব্য সরবরাহ এবং ধোলাইয়ের টেন্ডারে অংশ নেন। শুধু তাই নয়, টেন্ডারের জন্য তিনি হাসপাতালে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এ প্রসঙ্গে সঞ্জীব করের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তার মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ দিয়েও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে তারা বিষয়টি নিয়ে আপিল করার জন্য একাধিক পত্র দিয়েছেন। কিন্তু কাজ হচ্ছে না।

তিনি জানান, নিম্নমানের খাবার সরবরাহের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। রোগীদের স্বাস্থ্য নিয়ে কারো ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.