শাহ শরীফ উদ্দিন | ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
সিলেটের বিআরটিএ অফিসের দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে ‘দালালমুক্ত এলাকা’ লেখা সম্বলিত স্টিকার। আর এই স্টিকারের চার পাশেই ঘোরাফেরা করছেন ফাইল হাতে অগণন মানুষ। দেখে বুঝার উপায় নেই কে দালাল আর কে সেবা গ্রহণকারী। দালালের দৌরাত্ম্যের কারণে বিআরটিএ অফিসে আগত বেশিভাগ সেবাগ্রহীতাকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
তবে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ দালালদের দৌরাত্ম্যের বিষয়টি অস্বীকার করে বলছেন, কোন মানুষ যাতে দালালদের দ্বারা প্রতারিত না হয় তাই ‘দালালমুক্ত এলাকা’ লিখে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এই প্রচারণা আরও ব্যাপক করতেও উদ্যোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি বিআরটিএ অফিসে দালালদের বিচরণ বেড়েছে বলে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর থেকেই বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ মানুষের ব্যাপক সচেতনতার জন্য অফিসের দেয়ালে দেয়ালে ‘দালাল মুক্ত এলাকা’ লেখা সম্বলিত স্টিকার লাগিয়েছেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় সিলেটের বিআরটিএ অফিসের দেয়ালে দেয়ালে লাগানো হয়েছে ‘দালাল মুক্ত এলাকা’ লেখা সম্বলিত স্টিকার। এই স্টিকারের চার পাশে ঘোরাফেরা করছেন অগণন মানুষ। আর এদের মধ্যেই মিশে আছেন কয়েকজন দালাল। রেকর্ড রুমে ফাইল জমা দিয়ে দ্রুত চলে যাচ্ছেন অন্যত্র। এসময় রেকর্ড রোমে কর্তব্যরত কর্মকর্তার সাথে সখ্যতার বিষয়টিও নজরে আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবা গ্রহণকারীদের সাথে কথা বলে জানা যায় সিলেটের বিআরটিএ অফিসে ‘দালাল মুক্ত এলাকা’ লেখা হলেও মূলত দালাল ছাড়া কোন কাজ সঠিক ভাবে করা সম্ভব হয় না। এমনকি দালাল মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স জমা দিলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেই হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ব্যবস্থাও দালালরা করে দেয়।
মারুফ আহমদ নামের একজনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, দালাল মুক্ত এলাকা লেখা স্টিকার আসলে লোক দেখানো। কারণ দালাল ছাড়া কোন কাজ করাতে আসলে আসা যাওয়ার মধ্যেই মাসের পর মাস সময় চলে যায়। তাছাড়া লাইসেন্সের জন্য হলে দালাল ধরে কাজ করালে শুধু পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেই হয়। বাকিটা দালালরাই ব্যবস্থা করে দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও একজন বলেন, আমি দালাল ধরে লাইসেন্স করিয়েছি। কারণ দালাল ছাড়া আজকাল কোন কাজই হয় না। ঐ যে (বিআরটিএ অফিসের সামনের একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দেখিয়ে) দেখছেন এখানে সকল দালালরা বসে। যদি দালাল মুক্ত হয় এই অফিস তাহলে তারা এখানে বসে কি করছে!
এব্যাপারে সিলেটের বিআরটিএ অফিসের সহকারী পরিচালক ( ইঞ্জিন) মো. ডালিম হোসেন বলেন, কোন মানুষ যাতে দালালের আশ্রয় না নিয়ে নিজে এসে নিজের কাজের আবেদন করে এজন্যই মূলত এই প্রচারণা। তাছাড়া দালাল ধরে যে কোন কাজ করা যাবে না তার আগাম সংকেত হচ্ছে এই স্টিকার। ভবিষ্যতে এর ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে সকল মানুষকে দালালদের প্রতারণা থেকে রক্ষা করা যাবে। তবে দালালদের বিচরণের বিষয় নজরে পড়েছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এমন কোন কিছু আমাদের নজরে পড়েনি।