ওসমানীনগর প্রতিনিধি | ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
মুক্তিপণের দাবিতে সিলেটের ওসমানীনগরের হাফিজ মাসুক আহমদ নামের এক যুবককে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা মালয়েশিয়া নিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওসমানীনগর থানা পুলিশ গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ঘটার সাথে সংশ্লিষ্ট দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার কেন্দ্রীয় হাওর কাঠালবাড়ির খোরশেদ আলমের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম(৪৫) ও তার ছেলে আবুল হাসান (২৫)।
জানা যায়, ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা ইউপির আনোয়ারপুর গ্রামের কলিম উল্লাহর বড় ছেলে হাফিজ মাসুম আহমদকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে মালয়েশিয়া পাঠায় গ্রেপ্তারকৃত দুইজন সহ কতিপয় মানবপাচারকারী দলের সদস্য। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া পৌঁছার পর থেকেই পাচারকারী অন্য সদস্যদের হাতে বন্দি অবস্থায় রয়েছে মাসুম। তাকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকার মুক্তিপণের জন্য চাপ দিতে থাকে পাচারকারীচক্র।
মুক্তিপণের টাকা গ্রেপ্তারকৃতদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার জন্য বলে তারা। গত বৃহস্পতিবার মাসুমের পিতা কলিম উল্যাহ বাদী হয়ে সাত জনের নাম উল্লেখ সহ ১১ জনকে আসামী করে ওসমানীনগর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ আসামী গ্রেপ্তারের অভিযানে নামে।
মাসুমের বাবা কলিম উল্যাহ জানান, আমার ছেলে মাদ্রাসায় পড়াকালীন অবস্থায় হাসানের ভাই হোসাইনের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয়। বন্ধুত্বের সুবাদে হোসাইন আমার ছেলেকে জানায় তার মামাতো ভাই আল আমিন মালয়েশিয়ার থাকে। তার কাছে মালয়েশিয়া যাওয়ার ভাল কাজের একটি ভিসা আছে। ভিসার দাম দুই লাখ টাকা। মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আল আমিনকে দিতে হবে এবং বাকি টাকা পৌঁছার পর দেশে পরিশোধ করলে চলবে। কথামত টাকা পরিশোধ করার পরও আমার ছেলে মালয়েশিয়ায় পৌঁছার পর থেকে তারা জিম্মি করে রেখে মুক্তিপণ দাবি করে জানায় মুক্তিপণের টাকা না দিলে ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে নেয়।
ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা মানবপাচারের অভিযোগে ২জনকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।