বড়লেখা প্রতিনিধি | ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মহাদশমীতে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজা। শনিবার সকাল থেকেই দুর্গার বিদায় উপলক্ষে বিদায়ের সুর বেজে উঠে মণ্ডপে মণ্ডপে।
প্রতিমা বিসর্জনের জন্য দুপুর থেকে উপজেলার ৪টি বিসর্জন ঘাটে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ থেকে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে প্রতিমা নিয়ে আসতে থাকেন পূজারী ও ভক্তরা। চোখের জল, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় দুর্গতিনাশিনী দেবীকে বিদায় জানান তাঁরা।
শনিবার রাতে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাংলাবাজার ঘাট, পানিশাইল ঘাট, গুলুয়া ও ভাঘাডহরে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে বিসর্জন ঘাটগুলোতে ভিড় করেন সনাতন সম্প্রদায়ের হাজার হাজার ভক্ত অনুরাগীরা।
ঘাটগুলোতে প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন এমপি।
পৃথক পৃথক ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে পূজা উদযাপন পরিষদ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন এমপি।
বিকেলে বাংলাবাজার ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে সাবেক শিক্ষক অনুকুল চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে ও অকিল চন্দ্র দাসের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হুইপ শাহাব উদ্দিন এমপি ছাড়াও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মাহমুদ, পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও এপিপি গোপাল দত্ত, ভাইস চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ দাস নান্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত কুমার পাল, তালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস প্রমুখ।
হুইপের পরিদর্শন শেষে একে একে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের পালা। শঙ্খ উলুধ্বনির পাশাপাশি বাদ্য ঘণ্টা বাজিয়ে একের পর এক প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়। প্রসঙ্গত, এবার বড়লেখা উপজেলায় ১৩২টি সার্বজনীন ও ১৪টি ব্যক্তিগত পূজাম-পে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।