সিলেটটুডে ডেস্ক | ০২ অক্টোবর, ২০১৭
সিলেটে রুহেল মিয়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত শেষপর্যায়ে। শিগগিরই মামলার চার্জশিট প্রদান করবে পুলিশ।
গত ৬ জুলাই দক্ষিণ সুরমার খালপাড়স্থ সদরখলা-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীত দিকের পাকা রাস্তা সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড় এলাকা থেকে রুহেল মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করলেও হত্যাকান্ডের সাথে আরো অনেকেই জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সুনামগঞ্জের হাজীপাড়া গ্রামে মৃত আবদুল সুবহানের ছেলে রুহেল মিয়া (৩২)। রুহেলের লাশ উদ্ধারের পর তার ভাই সুহেল মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের দায়ী করে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে রুহেল মিয়াকে সবজি ব্যবসায়ী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে হত্যা মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রুহেল মিয়ার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে ৫টি চুরির মামলা রয়েছে। রুহেলের ভাই সুমনের বিরুদ্ধেও একটি চুরির মামলা রয়েছে।
জানা যায়, রুহেল মিয়া হত্যাকাণ্ডরে ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা হয়। তবে গত ১৩ আগস্ট খালপাড় গ্রামের আশিক মিয়ার ছেলে সাঈদ ও সাঈফকে আটক করে পুলিশ। পরদিন তাদেরকে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ায় পুলিশ।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই দুজন বলেন, গত ৫ জুলাই দিবাগত রাতে তাহাজ্জুদের সময়ে তাদের বাবা আশিক মিয়া নামাজের জন্য মসজিদে গেলে দরজা খোলা পেয়ে এক চোর ভেতরে ঢুকে পড়ে। তাদের ছোট ভাইয়ের মোবাইল চুরি করার সময় শব্দ হলে তারা জেগে ওঠেন। এ সময় তারা ‘চোর চোর’ বলে শোর-চিৎকার দিলে গ্রামের ও আশপাশের বাড়ির মানুষ এসে জড়ো হন। তখন সবাই ওই চোরকে ধরে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। খোঁজাখুঁজি করে চোরকে না পেয়ে সবাই বাড়িতে ফিরে যান। সকালে পুলিশ এসে সুরমা নদীর পাড় এলাকা থেকে একটি লাশ উদ্ধার করে। তখন জানা যায়, ওই লাশটি রাতের চোরের।
এদিকে, গত ৪ সেপ্টেম্বর সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলি আদালত-২ এ ১৪ আগস্টের ১৬৪ ধারার জবানবন্দী প্রত্যাহারের আবেদন করেন সাঈদ ও সাঈফ। আদালতে তাদের আবেদনে উল্লেখ করেন, ‘গত ১৩ আগস্ট বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আমাদেরকে থানায় নিয়ে যায়। আমাদেরকে থানায় আনার কারণ জিজ্ঞেস করলে দক্ষিণ সুরমার পুলিশরা বলে, তোদের অনেক সম্পত্তি হয়েছে। আমাদের সন্দেহ, এলাকার কিছু বিরোধীপক্ষ দ্বারা আমাদের ধরে এনে মিথ্যাভাবে দক্ষিণ সুরমা থানার ০৯/০৮/০৭/১৭ নং মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা আমাদের অকথ্যভাবে গালাগালি করে এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে বলে, আমরা যদি তাদের কথা মতো আদালতে জবানবন্দি না দেই তবে আমাদেরকে ক্রসফায়ার করবে।’
১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদনের শুনানি শেষে আদালতের বিচারক উম্মে সরাবন তহুরা আবেদনটি নথিভুক্ত করার আদেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণ সুরমা থানায় এসআই রিপটন পুরকায়স্থ বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই চার্জশিট দাখিল করা হবে।
মামলার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলেই পুলিশ চার্জশিট দাখিল করবে।
তিনি জানান, ঘটনার সাথে জড়িত আছে আরো অনেকে। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।