জগন্নাথপুর প্রতিনিধি | ০২ অক্টোবর, ২০১৭
গত ৭ জুলাই সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা (নং-০৫/৯৯) করা হয়। মামলায় বাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয় উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরণ গ্রামের মৃত ওয়ারিছ উল্লাহর পুত্র সুহেল মিয়ার নাম। তবে বাদীর দাবি, তিনি এ মামলা দায়ের করেননি। কে করেছে তাও জানেন না। মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে আবেদনও করেছেন সুহেল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সুহেল মিয়া তাঁর স্কুল পড়ুয়া ভাতিজিকে ধর্ষনের দায়ে জগন্নাথপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ধর্ষনের দায়ে অভিযুক্ত করা হয় পাশ্ববর্তী খাগাউড়া গ্রামের রুবেল মিয়াকে। সহযোগী হিসেবে জনি মিয়ার নাম এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
মামলা দায়েরের পর রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি জেল হাজতে রয়েছেন।
তিনি গত ২৪ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার ও সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি বরাবরে একটি আবেদন করেন এজাহারে উল্লেখিত বাদী সুহেল মিয়া।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন- 'জীবন জীবিকার প্রয়োজনে আমি কুমিল্লায় বসবাস করেআসছি। কিন্তু গত ১৫ জানুয়ারি তারিখ সকাল সাড়ে নয়টায় সংগঠিত একটি ধর্ষণ ঘটনার বিবরণ দিয়ে জগন্নাথপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-এর ৫৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু ওই ঘটনার সময় ও মামালা রুজু করার আমি বাড়িতে ছিলাম না।'
আবেদনে সুহেল অভিযোগ করেন, তার নাম ব্যবহার করে এবং স্বাক্ষর জাল করে ওই মামলাতে তাকে বাদী হিসেবে রাখা হয়েছে। । এমনকি তিনি ওই মামলা ও ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
আবেদনে সুহেল উল্লেখ করেন, মামলা দায়েরের জন্য কখনো জগন্নাথপুর থানায় আসেনি এবং থানার পুলিশের কারো সাথেও সাক্ষাৎ করেনি।
আবেদনে তিনি লিখেন, আমাকে ও আমার ভাতিজিকে ব্যবহার করে অন্য কেউ মামলা দায়ের করে এজাহারে আমার নাম বাদী হিসেবে উল্লেখ করে ও স্বাক্ষর জাল করেছে।
তিনি ওই মামলা থেকে রেহাই পেতে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবরে আইনি সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন।
তবে বাদী মিথ্যাচার করছেন দাবি করে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনূর রশীদ চৌধুরী বলেন, 'মামলা রুজু করার সময় বাদীসহ মামলার সাক্ষীগন থানায় উপস্থিত ছিলেন। ফলে মামলা রুজু করা হয়েছে।'
এ ব্যাপারে কথা বলতে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) বরকত উল্লার মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।