মাধবপুর প্রতিনিধি | ০৪ অক্টোবর, ২০১৭
অকাল বন্যা আর শিলাবৃষ্টির কারণে চলতি বছরে বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারেননি মাধবপুরের কৃষকরা। তবে ফসল হারিয়েও ভেঙ্গে পড়েননি কৃষকরা। বোরোর ধাক্কা সামাল দিয়ে এবার তারা স্বপ্ন দেখছেন রোপা আমনকে ঘিরে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে এ ফসলের চাষ। বাম্পারও ফলনের আশা করছেন কৃষক এবং সরকারি কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রোপা আমন চাষে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের কৃষকরা। সবক’টি ইউনিয়নেই বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ধান চাষ করা হয়েছে।
কৃষকদের সাথে কথা বলেন জানা যায়, আমনের এ মৌসুমে অনেকটাই দুশ্চিন্তামুক্ত থাকেন তারা। কারণ এ সময় নেই শিলাবৃষ্টি, কালবৈশাখীর অথবা আগাম বন্যার ভয়। এছাড়া রোপা আমনের সবচেয়ে বড় শত্রু পোকার আক্রমণও তেমন নেই এবার। সবকিছু মিলিয়ে এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান কৃষকরা।
উপজেলার শাহজালালপুর গ্রামের গ্রামের কৃষক আক্কাছ আলী বলেন, এবার সঠিক সময়ে বৃষ্টি এবং পরিবেশের অনূকুল আচরণে এ পর্যন্ত পরিকল্পনামতই শেষ হয়েছে চারা রোপন, ধান চাষ এবং জমিতে সার প্রয়োগের কাজ। ঠিকমত মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে ধানের চারা। আর এবার ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাবে বলেও আশাবাদী তিনি।
উপজেলার বীর সিংহপাড়া এলাকার কৃষক ফুল মিয়া বলেন, এবার তিনি অন্য বছরের তুলনায় দ্বিগুন জমি চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত আশানুরূপ ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুন্দাদিল গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল জানান, সঠিক সময়ে মাঠ থেকে পানি নেমে যাওয়ায় এ বছর বেশি জমি রোপন করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও নিয়মিত কয়েকবার বৃষ্টি হওয়ার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় অন্তত দেড়গুণ ফলনের আশা করছেন তিনি।
মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিকুল হক জানান, গত বছর উপজেলার রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার হেক্টর ধরা হলেও এর চেয়ে অনেক কম জমি রোপন করা হয়েছিল। তবে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৯৫০ হেক্টর। কিন্তু চাষ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১১ হাজার হেক্টর।
তিনি আরো জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পরিবেশের ছিল অনূকুল অবস্থান। তাই কৃষকরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে বেশি জমি চাষ করেছেন। তাছাড়া সঠিক সময়ে জমিতে সার এবং কীটনাশক প্রয়োগ করায় আক্রমন করতে পারেনি পোকা। এছাড়াও সরকারি প্রশিক্ষণ মতে কৃষকরা জমিতে সুষম সারের সঠিক প্রয়োগ করেছেন। সবকিছু মিলিয়ে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন তিনি।