জগন্নাথপুর প্রতিনিধি | ০৯ অক্টোবর, ২০১৭
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের রিপন মিয়া নামের এক ঠিকাদারকে কুপিয়েছে তার অধীনে কাজ করা শ্রমিকরা। রিপন জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের মোরাদাবাদ গ্রামের আখলুছ মিয়ার পুত্র।
এ ঘটনায় জাকির হোসেন নামের এক শ্রমিককে আটক করে ঠিকাদার রিপনের লোকজন। আটককৃত জাকির মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি এলাকার মৃত আকবর আলীর ছেলে। খবর পেয়ে সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালীসহ এলকাবাসী জাকিরকে জগন্নাথপুর থানা পুলিশের হেফাজতে দেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়- মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ‘টিউবওয়েল’-এর ঠিকাদারীর কাজ করতেন জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের মুরাদাবাদ এলাকার আখলুছ মিয়ার দুই পুত্র আব্দুল কাইয়ূম ও রিপন মিয়া। তাঁরা ওই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে এ ধরনের কাজ করে থাকেন। সম্প্রতি বড়লেখা পৌর শহরের তেলিগুন এলাকায় টিউবওয়েল বসানোর কাজ করতে যান রিপন ও তার ভাই। সেখানে কাজ চলাকালে শ্রমিকদের মধ্যে টাকার লেনদেন নিয়ে ঠিকাদারদের বাকবিতন্ডা হয়। বাকবিতন্ডার জেড়ে গত ১ অক্টোবর ভোর রাতে বাসায় প্রবেশ করে রিপনের উপর হামলা চালায় জাকির হোসেনসহ অন্য শ্রমিকরা। এলোপাতাড়ী কুপিয়ে রিপনের মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে হামলাকারীরা চলে যায়।
সকালে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় রিপনকে উদ্ধার করে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এঘটনায় গত ৬ অক্টোবর বিকেলে চিকিৎসাধীন থাকা ছেলে রিপনকে দেখতে যান তাঁর মা। সেখান থেকে বাড়ী ফেরার পথে হঠাৎ দেখতে পান শ্রমিক জাকিরকে। তাঁরা জাকিরকে আটক করে গৃহবন্দি করে রাখেন প্রায় ৩দিন।
ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়দের সহযোগীতায় সেখান থেকে রোববার (৮ অক্টোবর) বিকেলে জাকির হোসেনকে উদ্ধার করে পুলিশী হেফাজতে নিয়ে যান জগন্নাথপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর অঞ্জন চন্দ্র সরকার।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে সাব-ইন্সপেক্টর অঞ্জন চন্দ্র সরকার বলেন, আটককৃত যুবক ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তবে এঘটনার স্থান অন্য জেলায় হওয়ায় সেখানকার দায়িত্বশীলদের সাথে কথা হচ্ছে এবং ঠিকাদার আব্দুল কাইয়ূম বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।