নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ অক্টোবর, ২০১৭
সিলেট নগরীর ফুটপাত দখলদার ও তাদের পেছনের মদদাতাদের তালিকা নিয়ে আজ আদালতে হাজির হতে পারেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও কতোয়ালি থানার ওসি গৌছুল হোসেন। মেয়র ও ওসির মধ্যে কে দখলদারদের তালিকা করবেন এ বিষয়ে সুরাহা না হলেও আজ (সোমবার) আদালতে হাজির হতে পারেন বলে মেয়রের ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও ফুটপাত দখলদারদের তালিকা জমা দিতে না পারায় ১৬ অক্টোবর তাদের আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো। গত ৭ অক্টোবর আদালত এ আদেশ দেন।
এদিকে, আদালতে জমা দেওয়া মেয়র ওসির তালিকায় দখলদার হিসেবে কাদের নাম থাকছে এ নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা কল্পনা।
তবে মেয়র বলছেন তালিকা প্রস্তুত করার দায়িত্ব পুলিশের। সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, তালিকা তৈরি পুলিশের কাজ। তারা এটা করছে। পুলিশ যে তালিকা দেবে সেটাই আদালতে দাখিল করব।
অপরদিকে কোতোয়ালি থানার ওসি গৌছুল হোসেনের দাবি, তালিকা তৈরি করছে সিটি কর্তৃপক্ষ। তারা যেসব সহযোগিতা চেয়েছেন সেসব সহযোগিতা আমরা দিয়ে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ মে ফুটপাত দখলকারীদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে মেয়রকে নির্দেশ দেন মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। এ ক্ষেত্রে মেয়রকে সহযোগিতার জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকেও নির্দেশ দেন আদালত। এ নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ মে নগরীর ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সিসিক। এ বৈঠকের পর গত ১ জুন থেকে নগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টা এলাকায় ফুটপাতে অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে সিসিক। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সে অভিযানে ভাটা পড়লে অবৈধ দখলদাররা ফিরে আসে।
এদিকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও ফুটপাত দখলকারী ও তাদের মদদদাতাদের তালিকা সংবলিত প্রতিবেদন জমা দেয়নি সিসিক।
গত ৮ জুন মেয়র প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করলে তাকে এক মাসের সময় দেওয়া হয়। এর পর আরও তিন মাস অতিবাহিত হলেও মেয়র প্রতিবেদন দাখিল করেননি। একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েও কেন আদালতের আদেশ মেনে প্রতিবেদন দাখিল করছেন না, তার ব্যাখ্যা দিতে তলব করে আদালত।