নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ অক্টোবর, ২০১৭
ছাত্রলীগ কর্মী ওমর আহমদ মিয়াদ নিহত হওয়ার জেরে নগরীর টিলাগড়ে সড়ক অবরোধ করেছে রনজিৎ সরকার অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিছিল নিয়ে এসে টিলাগড় পয়েন্টে জড়ো হয় বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এরপর পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এসময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মিয়াদ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায় বিক্ষোভকারীরা।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিক্ষোভকারীদের সাথে আওয়ামী লীগ নেতা রনজিৎ সরকারও যোগ দেন। এসময় বিক্ষোভকারীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শোনা যায়।
অবরোধকালে বিপুল সংখ্যক পুলিশও টিলাগড় পয়েন্টে অবস্থান নেয়। তাদের উপস্থিতিতেই প্রায় দেড় ঘণ্টা বিক্ষোভ করে ছাত্রলীগ। অবরোধের ফলে সিলেট-তামাবিল সড়কে যানজট লেগে যায়।
বিক্ষোভকালে রনজিৎ সরকার ছাড়াও শাহপরান থানা আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গির আলম, ছাত্রলীগ নেতা কামরুল ইসলাম, সঞ্জয় চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত রয়েছেন। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মিয়াদের খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
শাহপরান থানার ওসি আখতার হোসেন সড়ক অবরোধের কথা স্বীকার করে বলেন, পুলিশের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে নগরীর টিলাগড়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ওমর আহমদ মিয়াদ (২২) নামের এক ছাত্রলীগ নেতা। এতে আহত হয়েছেন আরও দুই কর্মী।
নিহত মিয়াদ সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরন মাহমুদ নিপু গ্রুপের কর্মী। তার উপর হামলাকারীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী গ্রুপের কর্মী।
আর হিরন মাহমুদ নিপু আওয়ামী লীগ নেতা রনজিৎ সরকার অনুসারী ও রায়হান চৌধুরী আরেক আওয়ামী লীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদ অনুসারী বলে পরিচিত।
অভিযোগ রয়েছে, এককালের বন্ধু আজাদ-রনজিতের মধ্যে বিরোধের ফলেই টিলাগড়ে ঘটছে একের পর এক সংঘাত-হত্যাকাণ্ড।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টিলাগড়ে সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের অফিসে সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হয়েছেন আহত নাসির ও তারিক নামে আরও দুই ছাত্রলীগ কর্মী।
এরআগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর একই এলাকায় প্রতিপক্ষ গ্রুপের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ছাত্রলীগের কর্মী জাকারিয়া মোহাম্মদ মাসুম। এনিয়ে গত ৭ বছরে সিলেটে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধে খুন হলেন ৮ জন। এরমধ্যে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাই ঘটেছে টিলাগড় এলাকায়।
নিহত ওমর আহমদ মিয়াদ সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্র এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের বালিশ্রি গ্রামের আকুল মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফখরুল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ফখরুল সিলেট সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স শাখায় কর্মরত।