নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ অক্টোবর, ২০১৭
সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নগরীর কোর্ট পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে পুলিশের সহায়তায় ৮টি লেগুনা জব্দ করেছে। পরে সেগুলো সিলেট কোতোয়ালি থানার মালখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সোমবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আদালতের নির্দেশনায় কোতোয়ালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন এ অভিযানে নামে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নগরীকে যানজটমুক্ত রাখতে ও ফুটপাত দিয়ে পথচারীদের চলাচল সুগম করতে আদালতের নির্দেশনায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন অভিযানে নামে।
সিসিক মেয়র আরিফুল হক ও কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ যৌথভাবে কোর্ট পয়েন্টে দাঁড় করা লেগুনার বিরুদ্ধে অভিযানে নামে। এসময় পুলিশ ধাওয়া ও লাঠিচার্জ করে ৮টি লেগুনা গাড়ি জব্দ করে। বাকি গাড়িগুলো দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে কোর্ট পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এর ফলে কোর্ট পয়েন্টে আর কোনো লেগুনা গাড়ি দাড়াতে দেখা যায়নি।
এদিকে লেগুনা জব্দের ঘটনার পর লেগুনা শ্রমিকেরা কোর্ট পয়েন্টে জড়ো হয়ে নীরব প্রতিবাদ করেন।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা অটো টেম্পো-লেগুনা চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. রুনু মিয়া মঈন জানান, নগরীর ভেতরে চলাচলের জন্য লেগুনার মেট্রোপারমিট আছে। শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সিসিককে আমরা অনুমতির জন্য আবেদনও করেছি। সিসিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নগর উন্নয়ন সভায় আলাপের বিবেচনায় রেখেছেন।
তিনি আরো জানান, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান রাস্তায় বিঘ্ন সৃষ্টি না করে চলাচলেরও অনুমতি দিয়েছিলেন। নগরীর ভেতরে গাড়িটি চলাচলের অনুমতি পাওয়ার পরও পুলিশ অহেতুক হয়রানি করছে। আমরা এ ব্যাপারে সাংগঠনিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবেলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি মো. গৌছুল হোসেন জানান,‘ নগরীকে যানজটমুক্ত রাখতে আদালতের নির্দেশনায় সিসিক ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। সে অনুযায়ী ৮টি লেগুনা জব্দ করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আরো জানান, আদালত নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে তাদেরকে নির্ভয়ে কাজ করতেও বলেছেন।
এদিকে বিশিষ্ট নগরবিদরা সিসিক ও পুলিশের এ যৌথ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন,এ অভিযানের ফলে নগরবাসী কিছুটা হলেও যানজটমুক্ত থাকবেন,আর এসমস্ত লেগুনার বেশীরভাগ চালকই কিশোর এবং অনভিজ্ঞ তাদের বেপরোয়া গতির জন্য নগরীতে প্রায় বেশীরভাগ অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।