Sylhet Today 24 PRINT

বড়লেখায় ভারতীয় গরু উদ্ধারকালে বিজিবি-স্থানীয়দের হাতাহাতি, আহত ৬

বড়লেখা প্রতিনিধি |  ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ভারতীয় তিনটি গরু উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবির সাথে স্থানীয় লোকজনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় কিছু লোক গরু গুলিকে নিজেদের দাবি করে বিজিবির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

বুধবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব মোহাম্মদপুর বাজারের ছোটলেখায় এ ঘটনা ঘটেছে।

খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে দুপুর আড়াইটার দিকে বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাজারে লোকজনের উপর লাঠিচার্জ করেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এদিকে এই ঘটনার পর বিকেলে বিজিবি, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠকে বিষয়টির তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়েছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিজিবি বোবারতল বিজিপির একটি দল বুধবার সকাল ১১টার দিকে তিনটি ভারতীয় গরু আটক করে। কিন্তু স্থানীয় লোকজন গুরুগুলো ব্যক্তিগত দাবি করেন। এ নিয়ে বিজিবি ও লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে দুপুর আড়াইটায় বিজিবির আরও লোকজন উপস্থিত হয়ে সমবেত লোকজনকে ধাওয়া ও লাঠিচার্জ করে। এ সময় ছয়জন আহত হয়েছেন। এ সময় বাজারের পাঁচ-ছয়টি দোকানও ভাংচুর হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন।

তবে বিজিবি দাবি করেছে, পাহাড়ে মালিকবিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় তিনটি গরু বিজিবির বোবারতল বিজিপির সদস্যরা আটক করে। গরুগুলোর শরীরে কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রমের সময় কাঁটাছেঁড়ার দাগও রয়েছে। এগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় ছোটলেখা বাজার এলাকায় কিছু লোক বিজিবির কাছ থেকে গরুগুলো ছিনিয়ে নেয়। একজন বিজিবি সদস্যের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে টানাটানি করেছে। পরে স্থানীয় মসজিদের মাইকে বিজিবিকে রোখার ঘোষণা দিলে বিজিবি ৫২ ব্যাটেলিয়ন থেকে দুটি সিকিউরিটি টিম সেখানে পাঠানো হয়। এ সময় লোকজনকে ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে এই ঘটনার পর সায়পুর (লাতু ক্যাম্প) গোলঘরে বিজিবি, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের একটি বৈঠক হয়েছে।

বৈঠকে বিজিবি ৫২ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক কর্নেল নিয়ামুল কবির, বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সোহেল মাহমুদ, বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সহিদুর রহমান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাব উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিষয়টির তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আর এরকম বিজিবির সাথে ঘটনায় না জড়াতে স্থানীয় লোকজন অঙ্গীকার করেছেন।

দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাব উদ্দিন বুধবার রাত সাড়ে ৭টায় বলেন, ‘বিজিবির সাথে এলাকার মানুষের একটি বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। সবাই বসে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।’

বিজিবি ৫২ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক কর্নেল নিয়ামুল কবির রাতে বলেন, ‘স্থানীয় বিজিবি ভারতীয় তিনটি গরু উদ্ধার করে ফেরার পথে স্থানীয় লোকজন গরু ছিনিয়ে নেয়। বিজিবির অস্ত্র নিয়ে টানাটানি করে। মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিজিবির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা বলে লোকজন জড়ো করা হয়।

ঘটনাটি শুনে ইউএনও, ওসি, চেয়ারম্যান এদের আসতে বলে আমি নিজে গিয়েছি। বেশ কিছু লোকজন জড়ো হয়ে হই-হল¬া করছিল। এসময় তাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেনি। পরে বৈঠকে বসে সমাধান করা হয়েছে। যারা গরু ছিনিয়ে নিয়েছিল তারা স্বীকার করেছে এটা তাদের ঠিক হয়নি। ভবিষ্যতে আর এরকম না করার কথা বলেছে। আগামী ৭দিনের মধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তারা লিখিত অঙ্গিকার দিবে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.