শাহ শরীফ উদ্দিন | ২৯ অক্টোবর, ২০১৭
সিলেটে গত এক সপ্তাহে তিন দফায় দাম বেড়েছে পঁেয়াজের। এই সময়ে কেজি প্রতি ১৫ থেকে ১৬ টাকা করে দাম বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি কম হওয়ায় বাড়ছে দাম।
এক সপ্তাহ আগে সিলেটের পাইকারী বাজারে প্রতি কেজি পিঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৬ টাকায়। তবে রোববার সিলেটের পাইকারী বাজার ঘুরে দেখা গেছে আকৃতিবেধে কেজি প্রতি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকায়। খুচরা বাজারে পেয়াজের দাম আরও বেশি। কোথাও কোথাও ৬০-৬৫ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি পিঁয়াজ।
সিলেটের ব্যবসায়ীরা জানান, চাপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ, ডুমরা, বেনাপোল, হিলি এই চার বন্দর দিয়ে পিঁয়াজ বাংলাদেশে আসে। কিন্তু সম্প্রতি পিঁয়াজ আমদানি পর্যাপ্ত না থাকায় গত এক সপ্তাহে তিন দফায় দাম বেড়েছে।
এদিকে পাইকারি বাজারে পিঁয়াজের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব ফেলেছে। তবে দাম বাড়ার বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে খুচরা বিক্রেতারা প্রায় দিগুণ দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদেরা।
সোনা মসজিদ থেকে সিলেটের পাইকারি বাজারে পিয়াজ সরবরাহকারী ব্যাপারী আব্দুল মজিদ জানান, ভারত থেকে পর্যাপ্ত পরিমানে পিঁয়াজ আমদানি না থাকায় পিঁয়াজের দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহে তিন দফায় দাম বেড়েছে। কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা করে দাম বেড়েছে বলে জানান তিনি। তবে আমদানি পর্যাপ্ত পরিমানে শুরু হলে আবার দাম কমবে বলে জানান তিনি।
কালিঘাটের পিঁয়াজের পাইকারী বিক্রেতা নিলাঞ্জন দাশ টুকু বলেন, পিঁয়াজের দাম অনেক বেড়েছে। রোববার ৪৮ টাকা থেকে শুরু করে পিঁয়াজের ধরণের উপর ভিত্তি করে পাইকারি বাজারে ৫২ টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিন কালিঘাট পিঁয়াজের আড়ত, রিকাবি বাজার, আম্বরখানা, মদিনা মার্কেট, ব্রহ্মময়ী বাজা ঘুরে দেখা যায় পাইকারি বাজারে পিয়াজের দাম সর্বোচ্চ ৫২ টাকা করে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে সর্বনিম্ন ৫৫ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬২ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
আবার নগরীর কয়েকটি আবাসিক এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কোন কোন দোকানে ৬৫ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে পিঁয়াজের কেজি।
নগরীর মদিনা মার্কেটের একটি দোকান থেকে পিঁয়াজ কেনা আলমগীর হোসেন বলেন, এক কেজি পিঁয়াজ ৬০ টাকা দিয়ে কিনেছি । ইচ্ছেমত দাম বাড়িয় দিচ্ছে বিক্রেতারা। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে পিঁয়াজের দাম বাড়লেও খুচরা বাজারে ৬০ টাকা বিক্রি হওয়ার মতো বাড়েনি।
দাঁড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা ফিরোজা পারভিন বলেন, বিভিন্ন গনমাধ্যম মারফত জেনেছি পিঁয়াজের দাম বেড়েছে। তবে পাইকারি বাজারে যে পরিমান বেড়েছে খুচরা বিক্রেতারা তার দ্বিগুন দাম বাড়িয়েছেন। নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দাম আদায় করছেন অবিযোগ করে তিনি বলেন, নিয়মিত মনিটরিং থাকলে যার যেমন খুশি তেমন দাম আদায় করতে পারতো না।
এব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাজার মনিটরিং এর চারটি টিম ইতিমধ্যে কাজ করছে। পিঁয়াজের দম যেহেতু বেড়েছে সুতরাং পিয়াজের বিষটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। তাছাড়া অসাধু ব্যবসায়ীদের মনগড়া দাম আদায় বন্ধ করতে ক্রেতাদেরও সচেতনতার প্রয়োজন আছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিক্রেতারা দাম চাইলেই ক্রেতারা তাদের ইচ্ছামতো দাম না দিয়ে বরং এতো বেশি টাকা চাওয়ার কারণ এমনকি প্রয়োজনে তারা কোথায় থেকে পাইকারি ভাবে সে কিনেছে, কতো টাকা দিয়ে কিনেছে এই বিষয়টিও ক্রেতারা জানার অধিকার রাখেন বলে জানান তিনি।